নোটিশ

শবে বরাতের নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া ও সতর্কতা ২০২২

শবে বরাতের নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া ও সতর্কতা: শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি পবিত্র দিন। সমগ্র বিশ্বের মুসলিমগণ বিশ্বাস করেন এ রাতে মহান আল্লাহ তা’আলার নিকট ক্ষমা  এবং প্রার্থনা করলে লাভ করা যায়। আর তার জন্য এ রাতটি এত বরকতময়। শবেবরাতে মুসলিম উম্মাহ নফল নামাজ আদায় করে, দোয়া এবং এবাদত করে থাকে।

আর তার জন্য আমরা আপনাদের জন্য এই আর্টিকেলটি নিয়ে এসেছি। এখানে আমরা শবে বরাতের নামাজের নিয়ম এবং নামাজ পড়ার জন্য নিয়ত ও দোয়া নিয়ে হাজির হয়েছি। যাতে করে আপনারা শবে বরাতের নামাজের নিয়ম জেনে নামাজ আদায় করতে পারেন এবং মহান আল্লাহতায়ালার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন।

শবে বরাত ২০২২ কবে হবে?

এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে শবে বরাত কবে হবে? তবে আমরা জানি যে ইসলামিক কোন পবিত্র দিন অনুষ্ঠিত হয় সম্পূর্ণ চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে। সাধারণত, শাবান মাসের 14 তারিখ দিবাগত রাতে শবেবরাত অনুষ্ঠিত হয়। ২০২২ সালে ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে শবেবরাত অনুষ্ঠিত হবে হাজার ১৮ই মার্চ দিবাগত রাতে এবং ১৯শে মার্চ সকলের সাধারণ ছুটি থাকবে।

সুতরাং ধর্মপ্রাণ মুসলমানগন ১৮ই মার্চ দিবাগত রাতে ইবাদতে মগ্ন থাকবেন।

শবে বরাতের নামাজের নিয়ম

শবে বরাতের নামাজের নিয়ম সম্পর্কে কোন বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। লাইলাতুল বরাত হচ্ছে আল্লাহ তাআলার নিকট এবাদত এর মাধ্যমে পূর্বের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে পাপ কাজ থেকে মুক্ত থাকার জন্য আশ্রয় চাওয়া। আর তাই এই রাতে একজন মুসলিম তার সামর্থ্য অনুসারে এবাদত করতে পারবেন।

শবে বরাতের কোন নামাজের বাধ্যতামূলক রাকাত নেই। যে যত রাকাত পড়তে পারে সে ততো রাকাত পড়তে পারবে। তবে শবে বরাতের নামাজ হচ্ছে নফল নামাজ। আর এই নামাজ দুই রাকাত করে  নিয়ত করে পড়তে হয়।

তবে কেউ কেউ শবে বরাতে কিছু নামাজ আদায় করে থাকেন। কিন্তু এই সকল নামাজ গুলো হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। আপনারা চাইলে পড়তে পারেন আর যদি না পড়েন তাহলে কোন গোনাহ হবে না। সেই সকল নামাজ গুলো হচ্ছে-

২ রাকাত তাহিয়্যাতুল ওযুর নামাজ

দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল ওযুর নামাজ পড়ার নিয়ম হচ্ছে-  প্রথমে নিয়ত করতে হবে, প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর একবার আয়াতুল কুরসি এবং তিনবার সূরা ইখলাস পাঠ করতে হবে।

ফজিলতঃ এই দুই রাকাত নামাজ পড়লে প্রতি ফোটা পানির জন্য ৭০০ নেকী লেখা হয়

২ রাকাত নফল নামাজ

দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার নিয়ম হচ্ছে-  প্রথমে নামাজের নিয়ত করতে হবে, প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করে একবার আয়াতুল কুরসি এবং 15 বার সূরা ইখলাস পাঠ করতে হবে। এরপর সালাম ফিরানোর পর 12 বার দরুদ শরীফ পাঠ করতে হবে।

ফজিলতঃ এই নামাজ পড়লে রুজির বরকত বৃদ্ধি পায় এবং কষ্ট দুঃখ হতে মুক্তি পাওয়া যায়।এর পাশাপাশি গুনাহতে মাগফিরাত পাওয়া যায়।

৮ রাকাত নফল নামাজ

৮  রাকাত নফল নামাজ পড়ার নিয়ম হচ্ছে- এই ৮ রাকাত নফল নামাজ দুই রাকাত করে পড়তে হবে। প্রতি রাকাতে সুরা ফাতেহার সাথে সূরা এ ক্লাস ৫ বার পাঠ করতে হবে।

ফজিলতঃ গুনাহ হতে মুক্তি পাওয়া যায়, দোয়া কবুল হতে পারে এবং অধিক নেকী লাভ করা যায়।

১২ রাকাত নফল নামাজ

১২ রাকাত নফল নামাজের নিয়ম হচ্ছে- এই ১২ রাকাত নামাজ দুই রাকাত করে নিয়ত করতে হবে। প্রতি রাকাতে সুরা ফাতেহার সাথে ১০ বার সূরা ইখলাস পাঠ করতে হবে। এবং নামাজ শেষ করে ১০ বার কালেমা তাওহীদ, ১০ বার কালেমা তামজীদ এবং ১০ বার দুরুদ শরীফ পাঠ করতে হবে।

১৪ রাকাত নফল নামাজ

১৪ রাকাত নফল নামাজ পড়ার নিয়ম- হচ্ছে ১২ রাকাত নফল নামাযের মত করে দুই রাকাত  করে নিয়ত করতে হবে। এই নামাজে প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর যেকোনো একটি সূরা পড়তে হবে।

ফজিলতঃ ১৪ রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর নিকট যেকোনো দোয়া চাইলে তা কবুল হবে।

৪ রাকাত নফল নামাজ এক সালামে

৪ রাকাত নফল নামাজ এক সালামে পড়ার নিয়ম হচ্ছে- নিয়ত করার পর প্রতি রাকাতে সুর ফাতিহা সূরা ফাতিহা এবং ৫০ বার সূরা ইখলাস পাঠ করতে হবে।

ফজিলতঃ এই ৪ রাকাত নফল নামাজ এক সালামে পাঠ করলে বান্দা এমনভাবে গুনা থেকে মুক্তি পাবে যেন সদ্য মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছে।

৮ রাকাত নফল নামাজ এক সালামে

৮ রাকাত নফল নামাজ  এক সালামে পড়ার নিয়ম- হচ্ছে- নিয়ত করার পর প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করে ১১ বার সুরা ইখলাস পাঠ করতে হবে।

সুতরাং, আপনারা চাইলেই এই নামাজ গুলো পরতে পারেন কিন্তু এই নামাজ গুলো হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। কালক্রমে এই নামাজ গুলো প্রচলন এসেছে।

শবে বরাতের নামাজের নিয়ত

শবে বরাতের নামাজের নিয়ত সম্পর্কে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলেছেন মানুষকে বিচার করা হবে তার নিয়তের উপর ভিত্তি করে। সুতরাং নিয়ত হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনারা নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে মনে মনে সিদ্ধান্ত যাবেন সেটি হচ্ছে মূলত নামাজের নিয়ত।

আপনি চাইলে এই নিয়ত আরবি বাংলা অথবা নিজের যেকোনো ভাষায় মনে মনে করে নিতে পারেন। তবে অবশ্যই নামাজের নিয়ত করার সময় শবে বরাতের নফল নামাজ উল্লেখ করতেই হবে।

শবে বরাতের দোয়া

আপনারা সবাই যেকোনো ভাবে দোয়া পাঠ করতে পারেন শবে বরাতের নির্দিষ্ট কোন দোয়া উল্লেখ করা নেই। তাই আপনারা আপনাদের মত করে দোয়া পাঠ করতে পারবেন। কিন্তু আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করার জন্য আমরা আপনাদেরকে একটি দোয়া দিয়ে দিচ্ছি-

رَبِّ أَوْزِعْنِىٓ أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِىٓ أَنْعَمْتَ عَلَىَّ وَعَلٰى وٰلِدَىَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صٰلِحًا تَرْضٰىهُ وَأَدْخِلْنِى بِرَحْمَتِكَ فِى عِبَادِكَ الصّٰلِحِينَ

শবে বরাতের এই দোয়াটি বাংলা উচ্চারণঃ রাব্বি আওঝি’নি আন আশকুরা নি’মাতাকাল্লাতি আনআমতা আলাইয়্যা ওয়া আলা ওয়ালিদাইয়্যা ওয়া আন আ’মালা সালেহাং তারদাহু ওয়া আদখিলনি বিরাহমাতিকা ফি ইবাদিকাস সালিহিন।’ (সুরা নামল : আয়াত ১৯)।

শবে বরাতের সর্তকতা

ঈমানদার ব্যক্তি বর্গ গন যখন শবে বরাত পালন করবেন তখন তাদের কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। আর সেগুলো-

  • শবে বরাতে আনন্দ উপভোগ করার উদ্দেশ্যে রুটি হালুয়া তৈরি করা যাবে না। আপনারা চাইলে এই রান্নার আয়োজন শবে বরাতের আগে অথবা পরে করতে পারেন।
  • ইবাদত বন্দেগী না হয়ে অযথা ঘোরাফেরা করা চলবে না
  • আতশবাজি পটকা ফোটানো যাবে না
  • অযথা কথা বলা এবং বেপরোয়াভাবে আচরণ করা যাবে না
  • অযথা আনন্দ-উল্লাস থেকে বিরত থাকতে হবে
  • অন্য কারো ইবাদতে বা ঘুমের মধ্যে তাকে ডিস্টার্ব করা যাবে না।

উপসংহার

আশা করছি আপনারা আমাদের এই আর্টিকেল থেকে শবে বরাতের নামাজের নিয়ম এবং শবে বরাতের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ গুলো সম্পর্কে অবগত হতে পেরেছেন। আপনারা যদি আমাদের কাছে স্বাভাবিক সম্পর্কিত আরও কিছু জানতে চান তাহলে আমাদেরকে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ।

Check This

Related Articles

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button