বাংলাদেশের আর্থ – সামাজিক উন্নয়নে ব্যবসায় উদ্যোগ এর ভূমিকা নিরূপণ

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যবসায় উদ্যোগের ভূমিকা নিরূপণ – এই প্রশ্নটি এসএসসি ২০২১ পরীক্ষার্থীরে ব্যবসা উদ্যোগ বিষয়ে ২য় অধ্যায় থেকে ২য় সপ্তাহের জন্য প্রদান করা হয়েছে। যথাযত পদ্ধতি অবলম্বন করে ব্যবসায় উদ্যোগের অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ও বিস্তারিত তোমাদের জন্য দেওয়া হলো। “Determining the role of business enterprise in the Socio-Economic development of Bangladesh”

বাংলাদেশের আর্থ – সামাজিক উন্নয়নে ব্যবসায় উদ্যোগ এর ভূমিকা নিরূপণ

প্রথমে অ্যাসাইনমেন্ট কাজ ও নির্দেশনা নিজের ছবি থেকে দেখে নিন।

অ্যাসাইনমেন্ট কাজ: বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যবসায় উদ্যোগের ভূমিকা নিরূপণ

  • ১.  উদ্বেগ ও ব্যবসায় উদ্যোগ এর ধারণা নিতে হবে;
  • ২. ব্যবসা উদ্যোগ গড়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশ বর্ণনা দিতে হবে;
  • ৩. ব্যবসায় উদ্যোগ এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে হবে;
  • ৪. আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যবসা উদ্যোগের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে হবে;

আরো দেখুন: বাংলাদেশে ব্যবসায় সম্প্রসারণে ব্যবসায় পরিবেশের প্রভাব বিশ্লেষণ

উদ্যোগ ও ব্যবসায় উদ্যোগ এর ধারণা

সাধারণ অর্থে, যে কোনাে কর্মপ্রচেষ্টাই উদ্যোগ। কোন সহৃদয় ব্যক্তি এলাকার জনসাধারণের বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের কল্যাণের লক্ষ্যে একটি হাসপাতাল স্থাপন করতে এগিয়ে আসেন। তিনি ব্যক্তিগত অর্থ ও সম্পদ ব্যয় করে হাসপাতালটি স্থাপন করেন এবং ডাক্তার ও নার্স নিয়ােগ করেন। এটি তার দৃঢ় মনােবল ও উদ্যোগ গ্রহণের ফসল। এভাবে সকল প্রকার জনহিতকর কাজ যেমন, স্কুল – কলেজ, হাসপাতাল ও খেলাধূলার ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা উদ্যোগের ফসল। ব্যবসায় স্থাপন বা প্রতিষ্ঠাও কোন একজন ব্যক্তি বা কয়েকজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। একটি ব্যবসায় স্থাপনের ধারণা চিহ্নিতকরণ থেকে শুরু করে ব্যবসায়টি স্থাপন ও সফলভাবে পরিচালনাই ব্যবসায় উদ্যোগ।

বিশদভাবে বলতে গেলে, ব্যবসায় উদ্যোগ বলতে বােঝায় লাভবান হওয়ার আশায় লােকসানের সম্ভাবনা জেনেও ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাওয়া ও সফলভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করা। যিনি ব্যবসায় উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনিই ব্যবসায় উদ্যোক্তা। যে ব্যক্তি দৃঢ় মনােবল ও সাহসিকতার সাথে ফলাফল অনিশ্চিত জেনেও ব্যবসায় স্থাপন করেন ও সফলভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করেন তিনি ব্যবসায় উদ্যোক্তা বা শিল্পোদ্যোক্তা। অন্যদিকে, মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে একটি ব্যবসায় স্থাপনের ধারণা চিহ্নিতকরণ থেকে শুরু করে ব্যবসায়টি স্থাপন ও সফলভাবে পরিচালনাই ব্যবসায় উদ্যোগ।

ব্যবসায় উদ্যোগ গড়ে উঠার অনুকূল পরিবেশ

আমরা যদি উন্নত বিশ্বের দিকে লক্ষ করি তাহলে দেখতে তাদের অগ্রগতির একটি প্রধান কারণ হলাে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা ও সম্প্রসারণের অনুকূল পরিবেশ। আমাদের দেশে মেধা, মনন ও দক্ষতার খুব বেশি ঘাটতি নেই। শুধুমাত্র অনুকূল পরিবেশের অভাবে আমাদের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায় উদ্যোগ গড়ে উঠার জন্য নিম্নোক্ত অনুকূল পরিবেশ থাকা উচিত।

উন্নত অবকাঠামােগত উপাদান : ব্যবসায় পরিচালনার জন্য আনুষঙ্গিক কিছু সুযােগ সুবিধা, যেমন বিদ্যুৎ, গ্যাস ও যাতায়াত ব্যবস্থা দরকার ব্যবসায়ের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য এই সকল উপাদান থাকা বাঞ্ছনীয়।

সরকারি পৃষ্ঠপােষকতা : সরকারি পৃষ্ঠপােষকতার মাধ্যমে দেশের ব্যবসায় উদ্যোগের আরও সম্প্রসারণ ও সমৃদ্ধি সম্ভব। সরকারি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত যেমন কর মওকুফ, স্বল্প বা বিনা সুদে মূলধন সরবরাহ ইত্যাদি ব্যবসায় উদ্যোগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারবে।

আর্থ : সামাজিক স্থিতিশীলতা: অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা যেমন ব্যবসায় উদ্যোগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে, তেমনি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা ব্যবসায় উদ্যোগের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

অনুকূল আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি : আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে ব্যাবসায় স্থাপন ও পরিচালনা সহজ হয়। অন্যদিকে অস্থিতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ব্যবসায় স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।

পর্যাপ্ত পুঁজির প্রাপ্যতা : যে কোনাে ব্যবসায় উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য প্রয়ােজন পর্যাপ্ত পরিমাণ পুঁজি বা মূলধন। মূলধনের স্বল্পতার কারণে অধিকাংশ ব্যবসায় স্থাপন ও পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। এজন্য দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে যাতে করে নতুন উদ্যোক্তারা পুঁজির যােগান পেতে পারে।

প্রশিক্ষণের সুযােগ : প্রশিক্ষণের অভাবে অনেক সময় সুযােগ সত্ত্বেও সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ব্যবসায়ের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব।

ব্যবসায় উদ্যোগ এর বৈশিষ্ট্য

ব্যবসায় উদ্যোগের ধারণা বিশ্লেষণ করলে যে সকল বৈশিষ্ট্য ও কার্যাবলি লক্ষ করা যায় তা হলাে :

১। এটি ব্যবসায় স্থাপনের কর্ম উদ্যোগ। ব্যবসায় স্থাপন সংক্রান্ত সকল কর্মকান্ড সফলভাবে পরিচালনা করতে ব্যবসায় উদ্যোগ সহায়তা করে।

২। ঝুঁকি আছে জেনেও লাভের আশায় ব্যবসায় পরিচালনা। ব্যবসায় উদ্যোগ সঠিকভাবে ঝুঁকি পরিমাপ করতে এবং পরিমিত ঝুঁকি নিতে সহায়তা করে।

৩। ব্যবসায় উদ্যোগের ফলাফল হলাে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। এর মানে হলাে ব্যবসায় উদ্যোগ সম্পর্কে ধারণা কোনাে চিন্তা – ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করে।

৪। ব্যবসায় উদ্যোগের অন্য একটি ফলাফল হলাে একটি পণ্য বা সেবা।

৫। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি সফলভাবে পরিচালনা করা।

৬। নিজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযােগ সৃষ্টি করা। ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা নিজের উপার্জনের ব্যবস্থা করতে পারেন।

৭। অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। ব্যবসায় উদ্যোগ মালিকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযােগ সৃষ্টি করেন।

৮। নতুন সম্পদ সৃষ্টি করা। ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে যেমন মানবসম্পদ উন্নয়ন হয় তেমনি মূলধনও গঠন হয়।

৯। সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা। ব্যবসায় উদ্যোগ দেশের আয় বৃদ্ধি ও বেকার সমস্যার সমাধানসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও অবদান রাখতে পারে।

১০। মুনাফার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা গ্রহণ করা। ব্যবসায় উদ্যোগ উদ্যোক্তাদের সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে অনুপ্রাণিত করে।

আর্থ : সামাজিক উন্নয়নে ব্যবসায় উদ্যোগের গুরুত্ব

বাংলাদেশ একটি উন্নয়শীল দেশ। ব্যবসায় উদ্যোগ নিম্নোক্তভাবে আমাদের দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।

সম্পদের সঠিক ব্যবহার : ব্যবসায় উদ্যোগ আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও মানব সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে। তাছাড়া নতুন নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে বিনিয়ােগ বৃদ্ধি এবং সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।

জাতীয় উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি : ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়। ফলে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত জাতীয় আয় বৃদ্ধির লক্ষমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়।

নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি : সরকারের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমেও দেশে শিল্প কারখানা স্থাপন, পরিচালনা ও সম্প্রসারণ হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে নিত্যনতুন কর্মসংস্থানের সুযােগ সৃষ্টি হয় যা বেকার সমস্যা দূর করতে উল্লেখযােগ্য ভূমিকা রাখে।

দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি : বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। আমাদের এই বিশাল জনসংখ্যাই আমাদের সম্পদ হতে পারে। কারণ ব্যবসায় উদ্যোক্তা দেশের অদক্ষ জনগােষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কাজে নিয়ােজিত করে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারে।

পরনির্ভরশীলতা দূরীকরণ : ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রনির্ভরশীলতা অনেকাংশে হ্রাস করতে পারি। ব্যবসায় উদ্যোগের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা একদিন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top