১৯৭১ সালে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখিত পাঁচটি ঘটনায় আমি উপস্থিত থাকলে যা করতাম

মনে কর, ১৯৭১ সালে তুমি ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিচের ঘটনার ক্ষেত্রে তুমি উপস্থিত থাকলে ঐ সময় কী করতে তার বর্ণনা দাও। (যে কোনাে তিনটি ঘটনার ক্ষেত্রে নিজের অনুভূতি লিখতে হবে)। ১০ সপ্তাহের এসাইনমেন্টে অধ্যায়নরত ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যবই থেকে একটি নির্ধারিত কাজ দেয়া হয়েছে।

১৯৭১ সালে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখিত পাঁচটি ঘটনায় বর্ণনা

আজ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ১০ম সপ্তাহের এ্যাসাইমেন্টটি প্রকাশ করা হয়েছে। যার ফলে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আমরা এটা আমাদের ওয়েবপেজে শেয়ার করেছি। আপনি চাইলে আমাদের ওয়েবসাইট থেকে এটি ডাউনলোড করতে পারেন।

অ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজঃ মনে কর, ১৯৭১ সালে তুমি ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিচের ঘটনার ক্ষেত্রে তুমি উপস্থিত থাকলে ঐ সময় কী করতে তার বর্ণনা দাও।

যে কোনাে তিনটি ঘটনার ক্ষেত্রে নিজের অনুভূতি লিখতে হবে

ক) রেসকোর্স ময়দানে ৭ই মার্চের ভাষণ শুনছ;

খ) ২৫শে মার্চ গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী;

গ) পাকিস্তান হানাদার ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস এলাকাবাসীকে নির্যাতন করছে;

ঘ) মুক্তিবাহিনীকে হানাদাররা তাড়া করছে;

ঙ) ১৬ ই ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পন দলিলে স্বাক্ষর করছে;

নমুনা সমাধান

১৯৭১ সাল বাঙালি জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর ছিল। এই বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ শুনে বাঙালিরা স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য ঝাপিয়ে পরে ফলে বাঙালিরা পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে স্বাধীনতা লাভ করে এবং আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে এই সময়ে। নিম্নে সেসব ঘটনা বর্ণনা করে এবং নিজেকে ৮ম শ্রেনির শিক্ষার্থী মণেকরে আমার অনুভূতির ব্যাখ্যা করা হলো:

রেসকোর্স ময়দানে ৭ই মার্চের ভাষণ :

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ এর ভাষণের সময় আমি অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। সেদিন ছিল রবিবার। সেদিন ক্লাস শেষে শিক্ষক জানায় বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দিবে। যেহেতু রেসকোর্স ময়দান বাসা থেকে ১০ মিনিট দূরুত্বের পথ ছিল তাই স্কুল ছুটির পর আমি বাবার সাথে গিয়েছিলাম। তাঁর ভাষণের মূল বক্তব্য ছিল- যেহেতু বঙ্গবন্ধু তথা আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে সেহেতু জনগণের প্রতি পাকিস্তান সরকারের সর্বাত্মক অসহযোগিতার নির্দেশ দিয়ে তিনি তাঁর ভাষবে কোর্ট কাচারি, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন। এমনকি যে পর্যন্ত আমরা মুক্তি পাচ্ছি, ততদিন আমরা খাজনা ট্যাক্স দেয়া বন্ধ রাখব। তাঁর এই ভাষণকে উপস্থিত জনগণ সমর্থন জানায়। এটি ছিল আমাদের কাছে অধিক গর্বের জায়গা।

২৫শে মার্চ গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী :

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতের ওই সেনা অভিযানের সাংকেতিক নাম বা কোডনেম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’।

এই অভিযানটির পরিকল্পনা করা হয়েছিল তারও এক সপ্তাহ আগে, ১৮ই মার্চ।

সময়টা ছিল রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ। গণপরিষদের অধিবেশন স্থগিত করায় ঢাকা তখন বিক্ষোভের শহর। ঢাকায় ইতিমধ্যে ওড়ানো হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। এরই মধ্যে ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমান ভাষণ দিয়েছেন। ডামি রাইফেল নিয়ে ঢাকার রাস্তায় মার্চ করছেন ছাত্র-ছাত্রীরা।

ঢাকায় তখন চলছে মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক। আলোচনায় অংশ নিতে জুলফিকার আলী ভুট্টোও রয়েছেন শহরে। সব মিলে খুবই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি।
এরকম প্রেক্ষাপটে পরিকল্পনা অপারেশন সার্চলাইটের, যুক্তি ছিল রাজনৈতিক সমঝোতা ‘ব্যর্থ’ হলে সামরিক অভিযান চালিয়ে ‘পাকিস্তান সরকারের কর্তৃত্ব’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

‘কালরাত্রির’ সেই ভয়াবহ সেনা অভিযানের পরিকল্পনা কীভাবে হয় তার ধারণা পাওয়া যায় সেসময় ঢাকায় দায়িত্বরত পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতিকথা থেকে।

পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের সহযোগী কর্তৃক এলাকাবাসীদের উপর নির্যাতন :

৭ই মার্চের ভাষণের পর পাকিস্তানি সরকার ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে, বাঙালিদের মাঝে বিরাজ করে উত্তাল অবস্থা। হানাদার বাহিনী বাঙালির উপর শুরু করে অমানবিক নির্যাতন। তাদের রাস্তাঘাট দেখিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে, পথ চিনিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ সহযোগী সংগঠন গড়ে তোলে, যা আলবদর, আলশামস, রাজাকার নামে পরিচিত। আমাদের এলাকায়ও শুরু হয় এই অত্যাচার। ঘরের বাইরে দেখলেই শুরু হতো। তখন মুক্তিযোদ্ধার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু আমি আর আমার বন্ধুরা মিলে ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রাজাকাদের গতি পথ থেকে শুরু করে সব কিছু লক্ষ করতাম আর মুক্তিবাহিনীদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হতাম। একসময় তাদের বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে আমাদের এলাকা মুক্তিবাহিনীর ঘাটিতে পরিণত হয়েছিল।

মুক্তিবাহিনীকে হানাদাররা তারা করেছে :

হানাদার বাহিনীরা মা বোনের ইজ্জত নেয়া থেকে শুরু করে নির্বিচারে শিশুদের হত্যা পর্যন্ত করতে পিছ পা হয় নি। তাই এই নরক যন্ত্রণা থেকে রক্ষা পেতে মুক্তবাহিনী তৎপর হয়ে উঠেছিল। তাই তারা সর্বদা খবর রাখতো যার কারনে আমাদের এলাকা থেকে মুক্তিবাহিনীকে তাড়াতে সক্ষম হয়েছিল।

১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীদের আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর :

১৬ ডিসেম্বর বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বাংলাদেশে অবস্থিত পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজি হাজার হাজার উৎফুল্ল জনতার সামনে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন। প্রায় ৯৩,০০০ পাকিস্তানি সৈন্য আত্মসমর্পণ করে, যা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্ববৃহৎ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান। এরই মাধ্যমে নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটে; পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত পূর্ব পাকিস্তান নামক অংশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ নামে স্বাধিকার ও স্বায়ত্বশাসন লাভ করে। বাবা বিকালে আমাকে ও আমার বন্ধুদের রেসকোর্স ময়দানে নিয়ে যান। গিয়ে দেখি ময়দানে লাখো মানুষের ভিড়। বিকাল ৪.৩১ মিনিটে জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী আত্মসমর্পণের দলিলে সই করেন। আত্মসমর্পণের দলিলের নাম ছিল “INSTRUMENT OF SURRENDER”। জয় বাংলার শ্লোগানে ঢাকার আকাশ বাতস মুখরিত হয়ে উঠে। বন্ধুরা মিলে বিজয়ের লাল-সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে বুকভরা আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরি। বিজয়ের সেই উল্লাসে ভাগীদার হতে পেরে আমি নিজেকে গর্ভিত মনে করি।

অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের জয়ী ও পরাজিত দুই পক্ষের মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিল স্বাক্ষরিত হয়। দেশের অন্যান্য জায়গায় স্থানীয়ভাবে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত আত্মসমর্পণের দলিল স্বাক্ষরিত হতে থাকে।

প্রকাশিত অ্যাসাইনমেন্ট সমাধানটি শুধুমাত্র নমুনা উত্তর। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আমরা প্রতি শ্রেনীর, সকল সপ্তাহের, সকল বিষয়ের নমুনা সমাধান এখানে দিয়ে থাকি। সুতরাং শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ এই উত্তর যেন হুবহুব অ্যাসাইনমেন্ট আকারে জমা না দেওয়া হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top