নোটিশ

শবে কদর কবে ২০২২? লাইলাতুল কদর ইংরেজি মাসের কত তারিখ

শবে কদর কবে ২০২২: শবে কদর ইংরেজি মাসের কত তারিখ পালন করা হবে? এ নিয়ে সকল মুসলিম ভাই ও বোনদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়ে আসছে। কারণ শবে কদর বা লাইলাতুল কদর হচ্ছে ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাই-বোনদের জন্য অন্যতম এক রজনী। যে রজনীতে ইবাদত করলে ১০০ রাতের ইবাদাতের পরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়।

তাই আজ আমরা আপনাদের জন্য শবে কদর কবে তা সম্পর্কে জানাবো। যেখান থেকে আপনারা শবে কদর কবে অনুষ্ঠিত হবে বাংলা এবং ইংরেজি মাসের এবং শবে কদর কেন পালন করা হয় সেই সম্পর্কে জানতে পারবেন। তাহলে চলুন জেনে নিই আমাদের পবিত্র মাহে রমজান মাসের কত তারিখে শবে কদর পালন করা হয় এবং শবে কদর আমাদের মুসলমানদের জন্য কেন এত গুরুত্বপূর্ণ রজনী।

শবে কদর কবে?

রমজান মাস এলেই সকলের মনে প্রশ্ন জেগে ওঠে শবে কদর কবে আসবে এবং শবে কদর কবে পালন করা হবে। রমজান মাসের অন্যতম এক বিশেষ রাত। এ রাতে আমাদের পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করা হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে পবিত্র কুরআন নাযিল করেন লাইলাতুল কদর রাতে।

তবে নির্দিষ্ট করে এখনো বলা যায়না যে লাইলাতুল কদর কবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামিক ইতিহাস থেকে জানা যায় যে লাইলাতুল কদর হচ্ছে রমজান মাসের শেষ ১০ দিনে অর্থাৎ নাজাতের ১০ দিনের যেকোনো বিজোড় রাতের এক রাত। যেহেতু নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না শবে কদর কবে অনুষ্ঠিত করা হয় সেহেতু রমজান মাসের ২১ তম, ২৩ তম, ২৫ তম, ২৭ তম, এবং ২৯ তম রমজান গুলোতে বিশেষ ইবাদত করা হয়।

তবে বিভিন্ন দেশে একটি দিন নির্দিষ্ট করে রাখা হয়েছে এবং সৌদি আরবের নিয়ম অনুসারে বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দেশে  রমজান মাসে ২৭ তম রোজা শবে কদর বা লায়লাতুল কদর হিসেবে পালন করা হয়।

শবে কদর ইংরেজি মাসের কত তারিখে?

শবে কদর কত তারিখে ইংরেজি মাসের ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত হবে? বর্তমানে আমাদের ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাই ও বোনদের মধ্যে এটি হচ্ছে একটি অন্যতম প্রশ্ন। তাই আজ আমরা আপনাদের জন্য এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর নিয়ে এসেছি। যেখানে সরকারি ভাবে শবে কদর কত তারিখে অনুষ্ঠিত হবে এবং ইসলাম এই শবে কদর সম্পর্কে কোন নির্দিষ্ট তারিক বলে দিয়েছে কিনা।

প্রথমেই বলে রাখা ভাল যে ইসলামের ইতিহাস থেকে এখন পর্যন্ত শবে কদর বা লাইলাতুল কদর এর নির্দিষ্ট কোন দিন খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে ইসলামিক ইতিহাস থেকে জানা যায় যে রমজান মাসের নাজাতের ১০ দিনের যেকোনো বিজোড় রাতগুলোর যে কোন এক রাতে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয়েছে এবং সেই রাতে যদি মুসলমান ব্যক্তিরা নিজেদেরকে ইবাদাতের মধ্যে যুক্ত করে রাখে এবং সঠিকভাবে এবাদত পালন করে তাহলে ১০০০ রজনী ইবাদত করলে সওয়াব পাওয়া যায় সেইসব শবে কদর বা লাইলাতুল কদরের পাওয়া সম্ভব।

২০২২ সালে শবে কদর অনুষ্ঠিত হবে ইংরেজি মাসের ২৮শে এপ্রিল দিবাগত রাতে। তবে মুসলিমদের উচিত শেষ ১০ রমজান গুলোর অর্থাৎ নাজাতের ১০ দিনের যেকোনো বিজোড় রাত গুলোতে ইবাদত করা।

শবে কদর কেন পালন করা হয়

আমরা এখন পর্যন্ত অনেকে জানিনা যে শবে কদর কেন পালন করা হয়? আর তার জন্য আমরা এ বিষয় সম্পর্কে আপনাদেরকে জানাতে এসেছি। শবে কদর বা লাইলাতুল কদর পালন করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কোরআন শরীফ নাযিল হয়েছে।

প্রতিবছর হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসারে রমজান মাসের ২৭ তম রমজান শবে কদর অনুষ্ঠিত হয়। আমরা সকলেই জানি যে লাইলাতুল কদর বা শবে কদর হচ্ছে একটি মর্যাদাপূর্ণ রাত। আরে রাতে মহান আল্লাহতালা সমগ্রক কুরআনুল কারীম লাওহে মাহফুজ হতে দুনিয়ার প্রথম আসমানে একসঙ্গে নাযিল করেছেন এ রাত এত মর্যাদাপূর্ণ এবং এড়াতে এবাদাত হাজার রাতের চেয়েও বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।

আর রাত সম্পর্কে মহান আল্লাহতালা বলেছেন, “ নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাযিল করেছিলাম। তোমাদেরকে কিসে জানাবে লাইলাতুল কদর কি? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আর এড়াতে ফেরেশতারা ও জিবরাঈল (আঃ) ওয়াসাল্লাম আল্লাহর অনুমতি ক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করেন। আরে সম্পর্কে বলা হয়েছে শান্তিময় এর সূচনা পর্যন্ত।”

হযরত আয়েশা (রা.) শবে কদর রাতে কোন দোয়া পড়তে হবে তা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বললেন, “ হে আল্লাহ আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন আমাকে দিন।” এ দোয়াটি পড়তে বললেন।

শবে কদর বা লাইলাতুল কদর সম্পর্কে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন রমজান মাসে তোমাদের মাঝে উপস্থিত একটি রাত হয়েছে যে রাতে এবাদাত করলে হাজার মাসের রাতে এবাদাত করার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে এবং যে ব্যক্তি এড়াতে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল সে সবকিছু হতে বঞ্চিত হল। শুধুমাত্র সম্মানিত  রাত হতে বঞ্চিত হয়।

এছাড়াও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য এক হাদিসে বলেছেন যে এর ঈমানের সঙ্গে যে ব্যক্তি পরিপূর্ণভাবে লাইলাতুল কদরের রাতের ইবাদত করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দিবেন।

তাফসীরে মাযহারী এবং মারেফুল কুর্আন উল্লেখ রয়েছে যে,  রাসুল সাঃ একদিন সাহাবীদের সামনে বনি ইসরাইলের আবেদ ও জাহিদ ব্যক্তির আমল এবং বলেছিলেন, ওই ব্যক্তির দীর্ঘ এক হাজার মাস রাত এবং দিনের সিয়াম পালন সেইসাথে জিহাদের মাধ্যমে সওয়াব লাভ করতেন। আর একথা শুনে সাহাবায়ে কেরাম নিজেদের অল্প কথা মনে করেন এবং খুব আফসোস করেছিলেন। আর ঠিক ওই সময় আল্লাহপাক সূরা কদর নাজিল কবে ঘোষণা দিয়েছেন, লায়লাতুল কদর এমন একটি রাজা হাজার মাস অপেক্ষা অধিকতর মর্যাদাবান এবং গুরুত্বপূর্ণ। তাই শবে কদরের রাতে যদি কোন মুসলমান ব্যক্তি এবাদত করে তাহলে এক হাজার মাস অর্থাৎ ৮৩ বছর ৪ ইবাদাত করলে যেসব পাওয়া যাবে সেই পরিমাপ লাভ করতে পারবে।

মহান আল্লাহতালা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য ১০৪ খানা আসমানি কিতাব নাযিল করেছেন তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ কিতাব আল কোরআন। পবিত্র আল-কুরআন মহান আল্লাহতালা সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ )এর উপর নাযিল করেছেন। আর এই মহা গ্রন্থটির লাইলাতুল কদরে নাযিল করা হয় তাই এ কদরের রাত অথবা রজনী প্রত্যেক মুসলমানদের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং মর্যাদাপূর্ণ একটি রাত।

তবে হাদিস শরীফ থেকে জানা যায় যে নির্দিষ্ট করে কোন রাত এখন পর্যন্ত জানা যায় নি পবিত্র কুরআন কোন রাতে নাযিল হয়েছে। কিন্তু ইসলামিক ইতিহাসবিদরা এবং শরীয়ত সম্মতভাবে অধিকাংশ মুসলমানরা ২৬ রমজানের দিবাগত রাতের অর্থাৎ ২৭ রমজানে লাইলাতুল কদর রাত হিসেবে পালন করে থাকে। কিন্তু সর্ব উত্তম হচ্ছে মুসলমান ভাই ও বোনেরা যদি রমজানের  নাজাতের ১০ দিনের বেজোড় রমজান গুলোর রাতে যদি নিজেদেরকে ইবাদাতের মধ্যে লিপ্ত করে রাখে তাহলে অধিক সওয়াব পাওয়া যায় এবং সঠিকভাবে লাইলাতুল কদর পালন করা হয়। তাই প্রত্যেকের উচিত  নাজাতের ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে নিজেদেরকে ইবাদতে বিবর্ণ করে রাখা এবং নিজেদের পূর্বের গুনাহের জন্য মহান আল্লাহতালার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা চাওয়া।

শেষ কথা

আপনারা যারা শবে কদর কবে ২০২২ সম্পর্কে জানতে চান তারা আশাকরি আমাদের এই আর্টিকেল থেকে জানতে পেরেছেন। তাছাড়াও আমরা সবে কদর সম্পর্কে কিছু তথ্য আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করেছি। আপনারা যদি আমাদের কাছে থেকে শবে কদর সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্য জানতে চান তাহলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। জাযাকাল্লাহ।

Check This

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button