রাষ্ট্রের ধরন বিশ্লেষণসহ গণতন্ত্র সফল করার উপায় এবং সংসদীয় সরকারের গুন ও ত্রুটি ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রের ধরন বিশ্লেষণসহ গণতন্ত্র সফল করার উপায় এবং সংসদীয় সরকারের গুন ও ত্রুটি ব্যাখ্যা করো। এসএসসি পৌরনীতি ৫ম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট ২০২১ সমাধান।

শিখনফল/বিষয়বস্তু:

ক) বিভিন্ন ধরণের রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা বর্ণনা করতে পারবে;

খ) বিভিন্ন সরকার ও রাষ্ট্রায় নাগরিকের অবস্থান ও সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারবে;

গ) গনতান্ত্রিক আচরেণ শিখব ও তা প্রয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ হব;

নির্দেশনা (সংকেত/ধাপ/পরিধি):

পাঠ্যপুস্তুক/শিক্ষক: (মোবাইল বা অনলাইনে) যোগাযোগ করে নেয়া যেতে পারে;

ক) প্রয়োজনে ইন্টারনেট থেকেও সহায়তা নেয়া যেতে পারে;

খ) রাষ্ট্র ও সরকারের ধারণা বর্ণনা করতে হবে;

গ )রাষ্ট্রের ধরন বিশ্লেষণ করতে হবে;

ঘ) গনতন্ত্রের ধারনা বর্ণনা করতে হবে;

ঙ) গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ক্রটি উল্লেখ করতে হবে;

চ) গনতন্ত্র সফল করার উপায় বর্ণনা করতে হবে;

ছ) সংসদীয় সরকারের ধারণা বর্ণনা করতে হবে;

জ) সংসদীয় সরকারের গুণ ও ক্রটি বর্ণনা করতে হবে;

বিভিন্ন ধরণের রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা বর্ণনা

রাষ্ট্র’ ও ‘সরকার একটি আরেকটির পরিপূক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু দুটি এক মনে হলেও এদের মধ্যে পার্থক্য আছে। রাষ্ট্র হলো একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী প্রতিষ্ঠান। এটি সার্বভৌম বা সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। আর সরকার রাষ্ট্র গঠনের চারটি উপাদানের (জনসংখ্যা, ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌম্ব) মধ্যে একটি উপাদান মাত্র। পৃথিবীর সব রাষ্ট্র একই উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হলেও সব রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থা একি রকমের নয়। আবার সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে যেকোনো দেশে রাষ্ট্র ও সরকারের স্বরুপ পরিবর্তিত হতে পারে।


অর্থনীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্রঃ

সম্পত্তি বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ থাকা না-থাকার ভিত্তিতে রাষ্ট্র দুই ধরনের হয়, যেমন- পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

পুঁজিবাদী রাষ্ট্রঃ

পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বোঝায়, যেখানে সম্পত্তির উপর নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয়। এ সরকারব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও ব্যবস্থাপনা) ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে। এর উপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকগণ সম্পদের মালিকানা ও ভোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন। বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই পুঁজিবাদী।

সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রঃ

সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলতে সেই ধরনের রাষ্ট্রকে বোঝায়, যা ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করে না। এতে উৎপাদনের উপকরণগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকে। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন ও বণ্টনের ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এটি পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের বিপরীত। সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিস্বাতন্ত্রকে স্বীকার করা হয় না। এ ধরনের রাষ্ট্রে একটিমাত্র দল থাকে। গণমাধ্যম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিরোধী মত প্রচারের সুযোগ থাকে না। যেমন- চীন এবং কিউবা সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

ক্ষমতার উৎসের ভিত্তিতে রাষ্ট্রঃ

ক্ষমতার উৎসের ভিত্তিতে রাষ্ট্রকে আবার দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা – গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রঃ

যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা রাষ্ট্রের সকল সদস্য তথা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে, তাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে । এটি এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসনকার্যে জনগণের সকলে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সকলে মিলে সরকার গঠন করে। এটি জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত একটি শাসনব্যবস্থা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মতপ্রকাশ ও সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ থাকে। এতে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় অর্থাৎ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হয়।

একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাঃ

একনায়কতন্ত্র এক ধরনের স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা। এতে রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত কজন স্বেচ্ছাচারী শাসক বা দল বা শ্রেণির হাতে ন্যস্ত থাকে। এতে নেতাই দলের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, তাকে বলা হয় একনায়ক বা ডিকটেটর। একনায়কতান্ত্রিক শাসককে সহায়তা করার জন্য মন্ত্রী বা উপদেষ্টা পরিষদ থাকে। কিন্তু তারা শাসকের আদেশ ও নির্দেশ মেনে চলে। একনায়কের আদেশই আইন। এ ব্যবস্থায় শাসকের কারও কাছে জবাবদিহিতা থাকে না। এতে একটিমাত্র রাজনৈতিক দল থাকে। এই দলের নেতাই সরকারপ্রধান। তার ইচ্ছা অনুযায়ী দল পরিচালিত হয় এবং তার অন্ধ অনুসারীদের নিয়ে দল গঠিত হয়।

ক্ষমতা বণ্টনের নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্রঃ

রাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র দুই ধরনের হয়। যথা- এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্র।

এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রঃ এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হয়। ফলে কেন্দ্র থেকে দেশ পরিচালনা করা হয় । শাসনকার্যের সুবিধার জন্য দেশকে বিভিন্ন প্রদেশে বা অঞ্চলে ভাগ করে কিছু ক্ষমতা তাদের হাতে অর্পণ করা হয়। তবে প্রয়োজনবোধে কেন্দ্রীয় সরকার সে ক্ষমতা ফিরিয়ে নিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রঃ যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় একাধিক অঞ্চল বা প্রদেশ মিলিত হয়ে একটি রাষ্ট্র গঠন করে, তাকে যুক্তরাষ্ট্র বলে । এ ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের শাসনকার্যের সুবিধার জন্য সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রদেশ বা অঞ্চলের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পাশাপাশি অবস্থিত কতগুলো ক্ষুদ্র অঞ্চল বা প্রদেশ একত্রিত হয়ে একটি বড় রাষ্ট্র গঠন করে বলে রাষ্ট্রটি শক্তিশালী হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার সম্পদ আহরণ করে একটি বৃহৎ অর্থনীতি গঠনপূর্বক রাষ্ট্রকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

উত্তরাধিকার সূত্রের ভিত্তিতে রাষ্ট্রঃ

উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা লাভ দুই ধরনের, যথা- নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র ও নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র ।

নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রঃ এ ধরনের রাষ্ট্রে রাজা বা রানী রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। এতে শাসনব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। বর্তমান বিশ্বে এ ধরনের রাষ্ট্রের সংখ্যা নগণ্য। সৌদি আরবে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে। নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র :

এ ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রের রাজা বা রানী উত্তরাধিকার সূত্রে বা নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধান হন। কিন্তু তিনি সীমিত ক্ষমতা ভোগ করেন। রাষ্ট্রের প্রকৃত শাসন ক্ষমতা থাকে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে। যুক্তরাজ্যে (গ্রেট ব্রিটেন) নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র প্রচলিত রয়েছে।

উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রঃ

কল্যাণমূলক রাষ্ট্রঃ যে রাষ্ট্র জনগণের দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা পূরণের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করে, তাকে বলা হয় কল্যাণমূলক রাষ্ট্র। এ ধরনের রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করে, বেকার ভাতা প্রদান করে, বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। রাষ্ট্র সমাজের মঙ্গলের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করে। খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে। রাস্তাঘাট, এতিমখানা, সরাইখানা, খাদ্য ভর্তুকি প্রদান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। বেকার ভাতা, অবসরকালীন ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ইত্যাদি প্রদান করে। সচ্ছলদের উপর উচ্চহারে কর ধার্য করে ও কম সচ্ছলদের উপর কম কর ধার্য করে দরিদ্র ও দুস্থদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে ।

গণতন্ত্র সফল করার উপায়ঃ

  1. আইনের শাসন হলো গণতন্ত্রের প্রাণ। এজন্য সবাইকে আইন মানতে হবে। আইনের চোখে সবাই সমান। অতএব, সকলের প্রতি সমান আচরণ করতে হবে। অর্থাৎ সমান অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে ।
  2. গণতন্ত্রের বাহন হচ্ছে নির্বাচন। নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, সেজন্য নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে। অযোগ্য লোক যেন নির্বাচিত হতে না পারে, সেজন্য নাগরিকদের সচেতনভাবে ভোট দিয়ে উপযুক্ত লোককে নির্বাচন করতে হবে। এতে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।
  3. নাগরিকদের পরমতসহিষ্ণু হতে হবে। সবাইকে মত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করতে হবে এবং অধিকাংশের মতামতকে সবার মতামত হিসেবে মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। নিজের বা নিজ দলীয় মতামত জোর করে অন্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
  4. ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থপরতা পরিহার করতে হবে । এটি সকল নাগরিক ও রাজনৈতিক দলের জন্য প্রযোজ্য। কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করলে হবে না। দেশের মঙ্গলকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করতে হবে। নিজের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি অন্যের অধিকারকে সম্মান করতে হবে।
  5. নিজের অধিকার আদায় যেন অন্যের অধিকার ভঙ্গের কারণ না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে ।
  6. বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং দলের মধ্যে সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে ।
  7. ব্যক্তিস্বাতন্ত্রকে শ্রদ্ধা করতে হবে। সেই সাথে নাগরিকদের সুনাগরিকের গুণাবলি অর্জন করতে হবে । নাগরিকদের হতে হবে বুদ্ধিমান, আত্মসংযমী ও বিবেকবান।

সংসদীয় সরকারের গুণ ও ত্রুটিঃ

সংসদীয় সরকারের গুণঃ

১. দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা : সংসদীয় সরকার দায়িত্বশীল সরকার। এতে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী। দল উভয়ই তাদের কাজের জন্য জনগণের নিকট দায়ী থাকে।

২. আইন ও শাসন বিভাগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক : শাসন বিভাগের সদস্যগণ আইনসভার সদস্য হওয়ায় এ সরকারে আইন ও শাসন বিভাগের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকে।

৩. বিরোধী দলের মর্যাদা : এ সরকার ব্যবস্থায় বিরোধী দলকে বিকল্প সরকার মনে করা হয়। ফলে জাতীয় সংকটে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল একসাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারে। বিরোধী দল হচ্ছে সংসদীয় ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

৪. সমালোচনার সুযোগ : এ সরকারে সংসদ সদস্যগণ বিশেষ করে বিরোধী দলের সদস্যগণ সংসদে বসে সরকারের কাজের সমালোচনা করার সুযোগ পায়। ফলে সরকার তার কাজে সংযত হয় ও ভালো কাজ করার চেষ্টা করে।

৫. রাজনৈতিক শিক্ষা দেয় : সংসদীয় সরকার জনমতের দ্বারা পরিচালিত হয়। জনমতকে অনুকূলে রাখার জন্য তাই সরকারি ও বিরোধী দল সবসময় তৎপর থাকে। সংসদে বিতর্ক হয়। এতে জনগণ রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়।

সংসদীয় সরকারের ত্রুটিঃ

১. স্থিতিশীলতার অভাব : সংসদীয় সরকার অস্থিতিশীল হতে পারে। মন্ত্রিসভা আইনসভার আস্থা হারালে অথবা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার হেরফের হলে সরকারের পতন ঘটে। এ ধরনের পরিস্থিতি দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

২. ক্ষমতার অবিভাজন : এ ধরনের সরকারে শাসন ও আইন প্রণয়ন ক্ষমতা একই স্থানে তথা মন্ত্রিপরিষদের হাতে থাকে বলে মন্ত্রীগণ স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য সংসদীয় সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরাচার বলে আখ্যায়িত করা যায় ।

3. অতি দলীয় মনোভাব : সংসদীয় সরকার মূলত দলীয় সরকার। এতে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর সরকারের গঠন ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে। ফলে দলকে অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী উভয় দলই চরম দলীয় মনোভাব নিয়ে কাজ করে। এছাড়া দলীয় সরকার হওয়ায় দলের সদস্যদের সন্তুষ্ট করার জন্য মেধা ও যোগ্যতা বিবেচনা না করে অনেককে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে জাতীয় স্বার্থ ব্যাহত হয়।

. সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব : এখানে যে কোন বিষয়ে বহু আলোচনা ও পরামর্শের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি হয়। অনেক কাজই সময়মত করা সম্ভব হয় না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top