যৌথ মূলধনী ব্যবসায় অর্থায়ন এর সামগ্রিক ধারণা ব্যাখ্যা করো

এইচএসসি ২০২২ সালে শিক্ষার্থীদের ৫ সপ্তাহের ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ। শিক্ষার্থীদের “যৌথ মূলধনী ব্যবসায় অর্থায়ন এর সামগ্রিক ধারণা ব্যাখ্যা করো” এই প্রশ্নটি দেওয়া হয়েছে। নিচের তার সমাধান দেওয়া হলো।

যৌথ মূলধনি ব্যবসায়ের অর্থায়নের সামগ্রিক ধারণা ব্যাখ্যাকরণ

“Finance is the management of money and other valuables, which can be easily converted into cash.” অর্থায়ন হলো ব্যবসায়িক কার্যক্রম যেমন কোম্পানি, ফার্ম,ব্যক্তি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল (অর্থ) সরবরাহ করার সহজ বিষয় যা সংস্থার অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য অর্জনের সবচেয়ে অনুকূল অবস্থা ।

যে কোম্পানি অধিক মূলধন,সীমিত দায়,যৌথ ব্যবস্থাপনা এবং আইন কর্তা ও পৃথক অস্তিত্ব বিশিষ্ট ব্যবসাকে যৌথ মূলধনী ব্যবসা বলে। কোম্পানি ব্যবসায় একটি স্বেচ্ছামূলক প্রতিষ্ঠান।কোম্পানি ব্যবসায় করতে আগ্রহী কিছু সংখ্যক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় সংঘবদ্ধ হয়ে কোম্পানি গঠন করে।

যৌথ মূলধনি কোম্পানির অর্থায়নের ধারণা

ব্যবসায়ের অর্থায়ন এক মালিকানা এবং অংশিদারী ব্যবসায়ে মালিক সরাসরি ব্যবসা পরিচালনায় জড়িত। কিন্তু কোম্পানির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা। মালিক তথা শেয়ার মালিক ব্যবসা। পরিচালনায় সরা জড়িত থাকে না। তাই এই অর্থায়নের স্বরূপ সম্পূর্ণ আলাদা।

যাকে আমরা কর্পোরেট সংস্কৃতি অনুমােদন পাওয়ার পর একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি তার অনুমােদিত মূলধনকে ছােট ছােট অংশে বিভক্ত করে শেয়ার হিসেবে জনসাধারনের নিকট বিক্রয় করে। শেয়ার ছাড়া বন্ড ও ডিবেঞ্চার বিক্রয় করেও যৌথ মূলধনি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সাধারণ জনগণের নিকট থেকে তহবিল সংগ্রহ করতে পারে।

একটি যৌথ স্টক কোম্পানীর একটি ব্যবসা সত্তা যেখানে কোম্পানির শেয়ারের শেয়ার শেয়ারহোল্ডারদের দ্বারা কেনা এবং বিক্রি করা যায়। প্রতিটি শেয়ারহোল্ডার তাদের শেয়ার (মালিকানা সার্টিফিকেট) দ্বারা প্রমাণিত অনুপাত, কোম্পানির স্টক মালিকানাধীন। শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির অব্যাহত অস্তিত্বের জন্য কোনও প্রভাব ছাড়াই অন্যদের কাছে তাদের শেয়ার হস্তান্তর করতে সক্ষম।

আধুনিক দিনের কর্পোরেট আইনে, একটি যুগ্ম-স্টক কোম্পানীর অস্তিত্ব প্রায়ই অন্তর্ভুক্তকরণ (শেয়ারহোল্ডারদের থেকে আলাদা আইনি ব্যক্তিত্বের মালিক) এবং সীমিত দায় (শেয়ারহোল্ডাররা শুধুমাত্র বিনিয়োগের অর্থের মূল্যের জন্য কোম্পানির ঋণের জন্য দায়ী)। কোম্পানিতে). অতএব, যুগ্ম-স্টক কোম্পানি সাধারণত কর্পোরেশন বা সীমিত কোম্পানি হিসাবে পরিচিত হয়

কিছু বিচারব্যবস্থা এখনও সীমিত দায় ছাড়া যৌথ স্টক কোম্পানী নিবন্ধনের সম্ভাবনা প্রদান করে। ইউনাইটেড কিংডম এবং অন্যান্য দেশে যে কোম্পানি আইন তার মডেল গৃহীত হয়, তারা সীমাহীন কোম্পানি হিসাবে পরিচিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, তারা যৌথ স্টক কোম্পানি হিসাবে সহজে পরিচিত।

যৌথ মূলধনি কোম্পানির কার্যাবলী বর্ণনা

যৌথ মূলধনি ব্যবসায় মূলত সংরক্ষিত মূলধন, শেয়ার বিক্রয় ও ঋণ সংগ্রহের মাধ্যমে অর্থ বা তহবিল সংগ্রহ করে থাকে। এসব বিভাগের মাধ্যমে ব্যবসায় সময়ের প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যাবলি পরিচালিত হয়। কিন্তু এসব বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হলাে অর্থ বিভাগ। প্রতিটি বিভাগের সাথে এর যােগাযােগ রয়েছে।

নিচে যৌথ মূলধনি কোম্পানির কার্যাবলি আলােচনা করা হলঃ

(১) তহবিল সংগ্রহ: একজন আর্থিক ব্যবস্থাপকের অন্যতম কাজ হলাে কম খরচের সম্ভাব্য উৎসসমুহ চিন্তিত করে সেখান থেকে প্রয়ােজনীয় তহবিল সংগ্রহ করা। একটি প্রকল্পে বিনিয়ােগ করার জন্য প্রয়ােজনীয় অর্থের কী পরিমাণ নিজস্ব মূলধন এবং কী পরিমাণ ঋণকৃত মূলধন এর মাধ্যমে অর্থায়ন করা হবে তা নির্ধারণ করা অর্থায়নরে প্রধান কাজ। মালিকের নিজস্ব মূলধন ও ঋণকৃত মূলধনের মিশ্রণকে মূলধন কাঠামাে বলা হয়। যে মিশ্রণটির খরচ সবচেয়ে কম সেটাই কাম্য মিশ্রণ। আর এটা নির্ণয় করার অর্থায়ন কাজ। কোম্পানি তে শেয়ার মালিকদের আয় ও ঝুঁকির রক্ষা করে।

(২) মূলধন বাজেটিং সিদ্ধান্ত : মূলধন বাজেট সিদ্ধান্ত বলতে একটি প্রকল্প চিহ্নিতকরণ , বিশেস্নষণ ও নির্বাচন করাকে বুঝায়। অর্থাৎ মূলধন বাজেটিং বলতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়ােগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাকে বুঝায়। একটি প্রকল্পের জন্য কি পরিমাণ মূলধন প্রযােজন প্রকল্পের কার্যকাল , ঐ প্রকল্প থেকে ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত আয় , আযের অনিশ্চয়তা প্রভৃতি বিষয় বিবেচনা ও মূল্যায়ন করে বিনিয়ােগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। তাই দীর্ঘ মেয়াদি অর্থায়নের পূর্বে প্রকল্পের মূলধন বাজেটিং এর মাধ্যমে আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাই করে নেওয়া অর্থায়নের অন্যতম কাজ।সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। তাই দীর্ঘ মেয়াদি অর্থায়নের পূর্বে প্রকল্পের মূলধন বাজেটিং এর মাধ্যমে আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাই করে নেওযা অর্থায়নের অন্যতম কাজ।

(৩) স্বল্পমেয়াদি সম্পদ ব্যবস্থাপনা : একটি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী ও চলতি এই দুই ধরনের সম্পদ থাকে। স্থায়ী সম্পত্তি চলতি সম্পত্তিতে সময় করে অর্থ বিনিয়ােগ করতে হয়। এজন্য একজন আর্থিক ব্যবস্থাপককে যে কোন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে চলতি মূলধন ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে হয়। চলতি মূলধনে বিনিয়ােগের ক্ষেত্রে কোম্পানির মুনাফা অর্জন ক্ষমতা ও তারল্য এর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করাই প্রধান কাজ। স্বল্পমেয়াদি সম্পদ ব্যবস্থাপনা বলতে প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থ মজুদপন্য , প্রাপ্য বিল ইত্যাদির ব্যবস্থাপনাকে বুঝায়। কী পরিমাণ কাঁচামাল ক্রয়ের জন্য অর্থ কোথা হতে সংগ্রহ করা যাবে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে চলতি বিনিয়ােগ সিদ্ধান্ত বলে।

(৪) তহবিল মুনাফা বন্টন : চলতি ব্যবসায়ে মুনাফা হলে তা মালিকের মাঝে বিতরণ করা হয়। এটিকে লভ্যাংশ বা উরারফবহফ বলে । ব্যবসা প্রসারের জন্য এটি অর্থায়নের একটি উৎস হিসেবে কাজ করে। অর্জিত মুনাফার কি পরিমাণ শেয়ার মালিকদের মধ্যে বন্টন করা হবে এবং কি পরিমাণ কোম্পানিতে রেখে দেওয়া হবে তা ঠিক করে নিতে হয়। তাই যে লভ্যাংশ বন্টন হার কোম্পানির শেয়ার মালিকদের সন্তুষ্ট রেখে এবং ভবিষ্যতের বিনিয়ােগ সুযােগের সদ্ব্যবহারের সংস্থান রেখে শ্যের মূল্য সর্বাধিক করতে পারে তাই কাম্য লভ্যাংশ বন্টন কোম্পানির লভ্যাংশ প্রদানের স্থায়ীত্ব এবং বােনাস শেয়ার ও লভ্যাংশ প্রদানের ব্যাপারে আর্থিক অবকাঠামাে প্রদান করে থাকে।

যৌথ মূলধনি কোম্পানির অর্থায়নের নীতিসমূহের বর্ণনা

নীতিমালা হল কার্যসম্পাদনের কাঠামাে। সুতরাং নীতিমালা বলতে এমন কিছু স্টেলিক বিষয়কে বুঝায় যা নির্দিষ্ট কোন কার্য সম্পাদন করার ক্ষেত্রে অনুসরন করা হলে প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য অর্জন সহজতর হয়। তাই একজন আর্থিক ব্যবস্থাপককে বিনিয়ােগ সিদ্ধান্ত এবং অর্থায়নের অন্যান্য কাজ সম্পাদনের সময় অর্থায়নের এসব নীতিমালা বিবেচনা করতে হয়। নিচে যৌথ মূলধনি কোম্পানির অর্থায়নের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি সম্পর্কে আলােচনা করা হলাে-

১) অর্থের সময়মূল্য নীতি: এই নীতি সব ধরনের বিনিয়ােগের সাথে জড়িত। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে টাকার মূল্য প কারণ আজকের ১০০ টাকা একবছর পরের ১০০ টাকার সমান নয়। কেননা বিনিযােগের যথার্থ মূল্যায়ন একটি নির্দিষ্ট বাট্টাহার মাধ্যমে অর্থের সময়মূল্য নির্ধারণ করা হয়। একজন আর্থিক ব্যবস্থাপক তখনই একটি বিনিয়ােগ সিদ্ধন্ত গ্রহণ করে যখন উক্ত প্রকল্পের প্রত্যাশিত নগদ প্রবাহের বাট্টকৃত মূল্য প্রাথমিক বিনিয়ােগের চেয়ে বেশি হয়। কারণ আপাতদষ্টিতেবটিকরণ ছাড়া নগদ প্রবাহ বেশি মনে হলেও তা প্রকত পক্ষে বিনিযােগের সম্যমূল্য নির্ধারণ করা হয়।

২) তারল্য ও মুনাফা : আমরা প্রতিনিযুত শামিল আন্দোনের খবর পত্র পত্রিকায় দেখে থাকে। যেমন ধরমন , বকেয়া বেতনের দাবিতে কারখানা বন্ধ করে নেওয়ার খবর। অর্থাৎ এ প্রতিষ্ঠানটি তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে | তারল্যের বিষয়টি খুব গুরম্নত্বপূর্ণ। কেননা বেশি তারল্য থাকলে খরচ বেড়ে যায় আবার কম হলে ব্যয় নির্বাহ কমে যায়।

৩) ঝুঁকি – মুনাফা নীতি : একজন পাইলট বেতন ও ভাতাদি মিলিয়ে পর্যাপ্ত আর্থিক সুবিধা ভােগ করে। কারণ তার কাজের মধ্যে একটি ঝুঁকি রয়েছে। অর্থাৎ ঝুঁকি গ্রহণের সাথে আয়ের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ঝুঁকি ও আয়ের মধ্যে বিপরিত সম্পর্ক বিদ্যমান। বিনিয়ােগের ক্ষেত্রে একজন আর্থিক ব্যবস্থাপক ঝুকি ও আয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনপূর্বক বিনিয়ােগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ কওে থাকে। বিনিয়ােগ হতে প্রত্যাশিত মুনাফা অপেক্ষা প্রকৃত মুনাফা কম হওয়ার সম্ভাবনাকে ঝুঁকি বলা হয়।

৪) পাের্টফলিও বৈচিত্রায়নের নীতি : একজন বিনিয়ােগকারী তার সমস্ত অর্থ একটি সম্পদে বিনিয়ােগ না করে একাধিক সম্পদে বিনিয়ােগ করার মাধ্যমে ঝুঁকি হ্রাস করার প্রচেষ্টাকে পাের্টফলিও বৈচিত্রায়নের নীতি বলা হয়। অর্থায়নে একটি বহুল প্রচলিত মতবাদ হচ্ছে সম্পদ ব্যবস্থাপন ক্ষেত্রে এ নীতির ভূমিকা অপরিসীম। ধরুন আপনার সব টাকা মানিব্যাগে রেখেছেন। এটি হারিয়ে গেলে পুরাে টাকাই খােয়া যাবে আর যদি কিছু টাকা মানিব্যাগে , কিছু প্যান্টের পকেটে কিছু শার্টের পকেটে রাখা হলে ম্যানিব্যাগ হারালেও পুরাে টাকা খোয়া যাবে না এটাই মুলত বৈচিত্রায়ন।

যৌথ মূলধনি কোম্পানির অর্থায়নের লক্ষ্য বর্ণনা

(১) মুনাফা সর্বাধিকরণঃ কোন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যই হচ্ছে মালিকদের জন্য মুনাফা অর্জন এবং তা সর্বাধিকরণ করা। মুনাফা সর্বাধিকরণের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে একজন আর্থিক ব্যবস্থাপক ঐ ফার্মের বিনিয়ােগ সিদ্ধান্ত , অর্থসংস্থান সিদ্ধান্ত ও সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন করেন।

(২) সম্পদ সর্বাধিকরণঃ একটি ফার্মের সবচেয়ে গ্রহণযােগ্য এবং যথাযথ উদ্দেশ্য হচ্ছে ঐ ফার্মের শেয়ার হােল্ডারদের তথা, ফার্মের সম্পদ সর্বাধিকরণ বা নীট বর্তমান মূল্য সর্বাধিকরণ। কোম্পানির বা ফার্মের সম্পদ সর্বাধিকরণ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ঐ কোম্পানি তার আর্থিক কর্মকান্ড বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে।

এটি মুনাফা সর্বাধিকরণের উদ্দেশ্যের দুর্বলতাগুলি দূর করে সঠিকভাবে সম্পদের পরিমাপ করতে সক্ষম হয় বলে এ উদ্দেশ্যটি একটি সুষ্ঠু ও যুক্তিসঙ্গত উদ্দেশ্য হিসেবে সার্বজনীনভাবে গৃহীত।

এটি ফার্মের মুনাফা ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরােপ করে। ফার্মের দীর্ঘমেয়াদী মূল্য এর প্রবৃদ্ধি বিনিয়ােগকারীদের ঝুঁকির পরিমাণ, এর শেয়ার মূল্য এর শেযার মূল্য, লভ্যাংশ ইত্যাদি দ্বারা এ উদ্দেশ্য প্রভাবিত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top