মৌলগুলাের ইলেক্ট্রনবিন্যাসের মডেল তৈরি কর। ইলেকট্রন বিন্যাসই পরমানুর কাঠামাে রক্ষা করে’-উপরােক্ত মৌলগুলাের আলােকে এর যৌক্তিকতা নিরূপণ কর।

৮ম শ্রেণির বিজ্ঞান ৩য় এসাইনমেন্ট প্রশ্ন মূল বইয়ের ষষ্ঠ অধ্যায়: পরমাণুর গঠন থেকে নেওয়া হয়েছে ।

নির্ধারিত কাজ :

মৌলের প্রতীক প্রোটন সংখ্যা
X ১৩
Y
Z ১৬

উপরের ছকের মৌলগুলাের ইলেক্ট্রনবিন্যাসের মডেল তৈরি কর। ইলেকট্রন বিন্যাসই পরমানুর কাঠামাে রক্ষা করে’-উপরােক্ত মৌলগুলাের আলােকে এর যৌক্তিকতা নিরূপণ কর।

সংকেত:

ক) মডেল তৈরির জন্য সােলা, কাঠি, রঙ, তার, আঠা ইত্যাদি ব্যবহার।
খ) কাগজে অংকনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রঙ ব্যবহার করে চিত্রের উপাদান গুলােকে উপস্থাপন

মৌলগুলাের ইলেক্ট্রনবিন্যাসের মডেল

মৌলের নাম X, প্রােটন সংখ্যা ১৩ ছকে X চিহ্নিত মৌলটি হলাে অ্যালােমিনিয়াম (Al)। যার প্রােটন সংখ্যা ১৩। Al এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস হলাে ২,৮,৩। নিম্নে মডেল দেওয়া হলােঃ

মৌলের নাম Y, প্রােটন সংখ্যা ৭

ছকে Y চিহ্নিত মৌলটি হলাে নাইট্রোজেন (N)। যার প্রােটন সংখ্যা ৭। N এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস হলাে ২,৫। নিম্নে মডেল দেওয়া হলােঃ

মৌলের নাম Z, প্রােটন সংখ্যা ১৬ ছকে Z চিহ্নিত মৌলটি হলাে সালফার (S)। যার প্রােটন সংখ্যা ১৬। S এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস হলাে ২,৮,৬। নিম্নে মডেল দেওয়া হলােঃ

ইলেকট্রন বিন্যাসই পরমানুর কাঠামাে রক্ষা করে’ যৌক্তিকতা নিরূপণঃ

যৌক্তিকতা নিরূপণঃ “ইলেক্ট্রণ বিন্যাসই পরমাণুর কাঠামাে রক্ষা করে” উপরােক্ত মৌলগুলাের আলােকে এর যৌক্তিকতা নিরূপণ করা হলােঃ ইলেকট্রন বিন্যাস হতে পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলাে কিভাবে বিন্যস্ত থাকে সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের চারদিকে যতগুলাে কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান থাকে, সে কক্ষপথগুলােকে বলা হয় স্থির কক্ষপথ বা শক্তিস্তর। ছকে X মৌলটি অর্থাৎ অ্যালুমিনিয়াম (Al) এর প্রােটন সংখ্যা ১৩।

এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস ২,৮,৩। এটি ৩ টি কক্ষপথে অবস্থান করে। ১ম কক্ষপথে ২টি, ২য় কক্ষপথে ৮টি, ৩য় কক্ষপথে ৩টি। Y মৌলটি হলাে নাইট্রোজেন (N)। এর প্রােটন সংখ্যা ৭। এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস ২,৫। এটি ২টি কক্ষপথে অবস্থান করে। ১ম কক্ষপথে ২টি, ২য় । কক্ষপথে ৫টি। এবং Z মৌলটি হলাে সালফার (S) এর প্রােটন সংখ্যা ১৬। এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস ২,৮,৬। এটি ৩টি কক্ষপথে অবস্থান করে। ১ম কক্ষপথে ২টি, ২য় কক্ষপথে ৮টি, ৩য় কক্ষপথে ৬টি। পরমাণুতে ইলেকট্রনের সংখ্যা যত বেশি হয় শক্তিস্তরের সংখ্যাও ততাে বেশি হয়।

শক্তিস্তরের সংখ্যা যত বাড়ে পরমাণুর আকার তত বৃদ্ধি পায়। ফলে আমরা পরমাণুর ব্যাসার্ধ সম্পর্কে জানতে পারি। পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলাে তার শক্তিস্তরে বিন্যস্ত হয়ে সর্বশেষ শক্তি স্তর সম্পর্কে ধারণা দেয়। তার থেকেই পরমাণুর আকার, আকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সুতরাং বলা যায় “ইলেকট্রন বিন্যাসই পরমাণুর কাঠামাে রক্ষা করে”।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top