‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ।’

ব্যাংকের ধারণা : ব্যাংক শব্দটির আভিধানিক অর্থ কোন বস্তুবিশেষে স্তুপ, কোষাগার, লম্বা টেবিল হিসেবেও এই শব্দটির বিস্তৃতি আছে।কোন কোন অর্থনীতিবিদদের মতে প্রাচীন ল্যাটিন শব্দ Banco, Bangla, Banque, Bancus প্রভৃতি শব্দ থেকে Bank শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে। এই মতে অনুসারীদের যুক্তি অনুযায়ী শব্দের ল্যাটিন অর্থ বেঞ্চ অথবা বসবার জন্য ব্যবহৃত লম্বা টেবিল যার সম্পর্কে ইতিহাসের পাতায় সমর্থন পাওয়া যায়।

সাধারণ অর্থে, ব্যাংক এমন একটি আর্থিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান যেটি এক পক্ষ হতে আমানত হিসেবে অর্থ জমা রাখে এবং অন্য পক্ষকে আমানতি অর্থ ঋণ দেয়।ব্যাপক অর্থে, ব্যাংক এমন একটি আর্থিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান যার কাজ হচ্ছে আমানত গ্রহণ, ঋণ দেওয়া, ঋণ ও অর্থ সৃষ্টি করা সহ বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করা। ব্যাংকের অর্থ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজকে সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং বলে।

ব্যাংকের সংজ্ঞা বলতে গেলে আমরা বলতে পারি, ‘এটি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান জনগণের কাছ থেকে সুদের বিনিময়ে আমানত সংগ্রহ করে এবং মুনাফা অর্জনের নিমিত্তে বিনিয়োগ করে এবং চাহিবামাত্র অথবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সঞ্চয়কারীর কাছে ফেরত দিতে বাধ্য থাকে।’

ব্যাংক ব্যবসায়ের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য :

১) আর্থিকভাবে স্বচ্ছল : ব্যাংকিং কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রয়োজন। আর্থিক সচ্ছলতার অভাবের ব্যাংক দেউলিয়া হতে পারে তাই আর্থিক স্বচ্ছলতা বা প্রাচুর্য ব্যাংকের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

২) নিরাপত্তার প্রতীক : ব্যাংক ব্যবসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি গ্রাহকের অর্থ ও ঋণ হিসাবে প্রদত্ত অর্থের নিরাপত্তা বিধান। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যাংকের ঋণ প্রদানের সময় ঋণগ্রহীতার আর্থিক স্বচ্ছলতা ও সততার বিচার করা এবং পর্যাপ্ত জামানত গ্রহণ করা হয়।

৩) বিশ্বস্ততার প্রতীক : দক্ষ ব্যাংক ব্যবসার পূর্বশর্ত হলো ব্যাংকের উপর গ্রাহকের আস্থা। আস্থা অর্জনের জন্য ব্যাংক বিভিন্ন প্রকার সততা ও বিশ্বস্ততার নীতি অবলম্বন করে থাকে। এ আস্থার বলে গ্রাহক তাদের অর্থ ও মূল্যবান সম্পদ (লকার সেবা)ব্যাংকের কাছে জমা রাখে।

৪) সেবা বিক্রয় : ব্যাংকের গ্রাহকদের বহুবিধ সেবা প্রদান করা ব্যাংকের একটি অন্যতম দায়িত্ব গ্রাহকদের পর্যাপ্ত বহুমুখী সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে ব্যাংকের উন্নতি সম্ভব।

৫) মূলধন গঠনের কারখানা : ব্যাংক ঋণ প্রদানের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মূলধন বিনিয়োগ করে, যা একটি দেশের মোট উৎপাদন ও মূলধন গতিশীলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে তাই ব্যাংককে মূলধন গঠনের কারখানা বলা হয়।

৬) অর্থনীতির চালিকাশক্তি : মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাহায্য সহযোগিতা করা ব্যাংকের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

৭) গোপনীয়তা রক্ষা : ব্যাংকের মক্কেলের আস্থা অর্জনের একটি উপায় তাদের হিসাবের গোপনীয়তা রক্ষা করা। তাই গোপনীয়তা রক্ষা করা ব্যাংকের একটি অন্যতম দায়িত্ব।

কার্যের ভিত্তিতে ব্যাংকের শ্রেণীবিভাগ:

১) কেন্দ্রীয় ব্যাংক : কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সব ব্যাংকের মুরুব্বি, পরিচালক ও নিয়ন্ত্রক। গোটা ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রা বাজারকে সুসংগঠিত আকারে পরিচালিত করার উদ্দেশ্যে গঠিত। সাধারণত মুদ্রা প্রচলন, অর্থসরবরাহ সহ ঋণ নিয়ন্ত্রণের বিশেষ ক্ষমতা ও দায়িত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়োজিত‌। বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

২) বাণিজ্যিক ব্যাংক : মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে জনগণের সঞ্চিত অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ এবং সেই আমানত হতে ঋণ প্রদান কাজে প্রতিষ্টিত ব্যাংকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলা হয়‌। যেমন ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড।

৩) কৃষি ব্যাংক : কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষকগণকে বিভিন্ন মেয়াদের ঋণ প্রদান সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে যে ব্যাংক কাজ করে তাকে কৃষি ব্যাংক বলে। এটি একটি বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

৪) শিল্প ব্যাংক : দেশের শিল্প উন্নয়নের লক্ষ্যে যে ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে শিল্প ব্যাংক বলে। যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, ভূমিক্রয়, কারখানা নির্মাণের জন্য শিল্প ব্যাংক ঋণ প্রদান করে থাকে। বিডিবিএল বাংলাদেশের এই ধরনের একটি ব্যাংক।

৫) বিনিময় ব্যাংক : বৈদেশিক লেনদেন নিষ্পত্তির ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের জন্য যে ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে বিনিময় ব্যাংক বলে।বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়, রপ্তানি ইত্যাদি এই ব্যাংকের কাজ।

৬) বিনিয়োগ ব্যাংক : বিনিয়োগ ব্যাংক নবগঠিত শেয়ারের অবলেখক বা underwriting, শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী ঋণ প্রদান, ব্রিজ ফিন্যান্স, ডিবেঞ্চার ফিন্যান্স সহ বিভিন্ন পরামর্শমূলক কার্যাদি সম্পাদন করে থাকে।

৭) সঞ্চয়ী ব্যাংক : জনগণের অতিরিক্ত অর্থ সঞ্চয় হিসেবে গ্রহণ ও মুনাফা বা সুদ প্রদানের মাধ্যমে জনগণকে অধিক সঞ্চয়ে উৎসাহিত করে তোলাই এ ধরনের ব্যাংকের উদ্দেশ্য। যে কোনো সময় এ ধরনের ব্যাংকে টাকা জমা এবং অর্থ উত্তোলনের সুযোগ বা অন্যান্য নিয়মে এই ব্যাংকের সঞ্চয় পরিচালিত হয়।

৮) বন্ধকী ব্যাংক : ভূমি বন্ধক রেখে কৃষি শিল্পের প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদে যে ব্যাংক ঋণ প্রদান করে, তাকে বন্ধকী ব্যাংক বলে।

৯) পরিবহন : পরিবহন শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে জেনে বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে পরিবহন ব্যাংক বলা হয়। এ ব্যাংক যানবাহন নির্মাণ, যন্ত্রাংশ আমদানি,আধুনিকরণ, খুচরা যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য ঋণ সরবরাহ করে থাকে।

১০) ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ব্যাংক : ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার জন্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ব্যাংক আর্থিক সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করে থাকে।

১১) আমদানি- রপ্তানি ব্যাংক : আমদানি -রপ্তানি বাণিজ্যে সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে যে ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে আমদানি- রপ্তানি ব্যাংক বলা হয়। মূলত আমদানির জন্য ঋণ সরবরাহ, প্রত্যয়নপত্র সুবিধা, আমদানি তদারকি সহ বিভিন্ন উপদেশ মূলক কাজ করে থাকে।

১২) মার্চেন্ট ব্যাংক : মার্চেন্ট ব্যাংক, শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মোট বিনিয়োগের উপর মার্জিন ঋণ প্রদান করে থাকে। এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দেওয়া, মক্কেলের সাথে যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ করা ও কোম্পানির শেয়ার বা ঋণপত্র বিক্রি দায়িত্ব ও নেওয়া মার্চেন্ট ব্যাংকের কাজ।

সংগঠন কাঠামোর ভিত্তিতে ব্যাংকের শ্রেণীবিভাগ:
১) একমালিকানা ব্যাংক : একক উদ্যোগে ও পুঁজিতে এবং একক ব্যক্তি বা মালিক দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাংককে একমালিকানা ব্যাংক বলা হয়।

২) অংশীদারি ব্যাংক : অংশীদারি ব্যবসার মতো অংশীদারি আইনের ভিত্তিতে যে ব্যাংক গঠিত পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে অংশীদারি ব্যাংক বলে।

৩) যৌথ মূলধনী কোম্পানি ব্যাংক : কোম্পানি আইনের আওতায় যে ব্যাংকের মূলধন গঠিত হয় এবং পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে যৌথ মূলধনী কোম্পানি ব্যাংক বলা হয়।

৪) সমবায় ব্যাংক : সমবায়ের নীতি ও আইন অনুযায়ী গঠিত ও পরিচালিত ব্যাংককে সমবায় ব্যাংক বলা হয়। সমবায় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতো মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে নয় বরং জনকল্যাণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। যেমন: মার্কেন্টাইল কো অপারেটিভ ব্যাংক।

৫) রাষ্ট্রীয় মালিকানা : সম্পূর্ণভাবে সরকারি মালিকানায় ও পরিচালনায় যে ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে রাষ্ট্রীয় বা সরকারি ব্যাংক বলা হয়। যেমন- সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, জনতা ব্যাংক লিমিটেড।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে বাংলাদেশের প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ :

বর্তমান যুগে শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর সকল দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং এর গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যাংকের সাহায্য ছাড়া বৃহদায়তন ব্যবসা বাণিজ্য এখন কল্পনা করা যায় না। ব্যাংক শুধু ব্যবসায়ের চাকা সচল রাখেনা উপরন্তু ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিয়েও সাহায্য করে।তাই ব্যাংককে বিশ্ব বাণিজ্যের দিক দর্শন যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করা হয়। নিম্নে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার অবদান তুলে ধরা হলো :

১) সঞ্চয় সংগ্রহ মূলধন গঠন ও বিনিয়োগ : ব্যাংক গুলো বিভিন্নভাবে জনগণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় আমানত হিসেবে সংগ্রহ করে। ফলে সঞ্চিত অর্থ মূলধনের পরিণত হয় এবং ব্যাংক কৃষি শিল্প প্রযুক্তি ও বাণিজ্য সহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। বিশেষায়িত ব্যাংকের পাশাপাশি বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় দায়িত্ব পালন করে থাকে।

২) ঋণ প্রদান : ব্যাংক গুলো আমানতের একটি অংশ ক্ষুদ্র মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ীদের স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যে সহযোগিতা করে।

৩) বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি : ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করে। এতে আর্থিক বিনিময়ের সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত হয়। যেমন চেক, পে-অর্ডার, ড্রাফট, ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি হল বিনিময়ের মাধ্যম। এগুলো ব্যবহার করলে আর্থিক বিনিময় শুধু সহজেই হয় না, ঝুঁকিমুক্ত থাকে।

৪) ব্যাংকের বিশেষায়ন : বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের ব্যাংক বহুমুখী বিশেষায়িত সেবা দিয়ে থাকে‌। যেমন -কৃষি ব্যাংক কৃষি খাতের উন্নয়নে স্বল্প মেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দেয় এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন ব্যাংক সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে শিল্পের উন্নয়ন করে।

৫) বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ : ব্যাংক ছাড়া বৈদেশিক লেনদেন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিভিন্ন ব্যাংক নানাবিধ সহযোগিতা প্রদান করে। যেমন – আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক দেনা পাওনা পরিশোধের সহযোগিতা করা, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়, বৈদেশিক বাজার বিশ্লেষণে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ প্রদান। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর Foreign Exchange Division দায়িত্ব পালন করে।

৬) অর্থ স্থানান্তরের সহায়তা : আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিরাপদে ও দ্রুত অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে লেনদেন ও ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করেছে। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং এটি আরো সহজ করে দিয়েছে। এছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেন করেছে সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত।

৭) কৃষি উন্নয়ন : বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। একসময় কৃষির উৎপাদন হতো শুধু পারিবারিক ভোগের জন্য। বর্তমানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কৃষি উৎপাদন শুরু হয়েছে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে। কৃষি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে ব্যাংক কৃষকদের বিভিন্ন মেয়াদী ঋণ দিয়ে থাকে। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক একটি বিশেষায়িত ব্যাংক।

৮) শিল্প উন্নয়ন : বাংলাদেশের ব্যাংক গুলো শিল্প খাতে ঋণ দানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উন্নয়ন ব্যাংক উৎপাদনশীল খাতে দিয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

৯) কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি : ব্যাংক ব্যবসা প্রসারের ফলে উৎপাদনশীল খাতে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ছে। এতে দেশের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

১০) জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন : ব্যাংক বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে ফলে মাথাপিছু আয় বেড়ে যায় এবং জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন ঘটে। এছাড়াও ব্যাংক ভোগ্য পণ্যের জন্য ঋণ সহায়তা দিয়ে মানুষের জীবনের গুণগত মান উন্নত করে।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংক গুলো বিশেষ ভূমিকা রাখছে। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবসায়ের উন্নতির পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতি উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top