প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি ও প্রাণিজগতের প্রধান পর্বগুলাে পর্যালােচনা

প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি ও প্রাণিজগতের প্রধান পর্বগুলাে পর্যালােচনা। নির্দেশনাঃ ১। শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি গুলাের নাম, ২। শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে হাইড্রা ও মানুষের পার্থক্য নির্ণয়, ৩। প্রাণিজগতের প্রধান পর্বগুলাের নাম (ইংরেজিতে), ৪। পর্বগুলাের দুইটি করে শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য উল্লেখ (সাধারণ বৈশিষ্ট্য ব্যতীত), ৫। পর্বগুলির একটি করে প্রাণীর উদাহরণ (বৈজ্ঞানিক নাম ইংরেজিতে)

প্রশ্ন-১: শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি গুলাের নাম

নিচের চিত্রে শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি গুলোর নাম উল্লেখ করা হলো-

প্রশ্ন-২: শ্রেণিবিন্যাস ৩ টির ভিত্তির সাহায্যে হাইড্রা ও মানুষের পার্থক্য বর্ণনাঃ

মানুষ (স্তন্যপায়ী)

১. দেহ লোমে আবৃত;

২. স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে৷ তবে এর ব্যতিক্রম আছে, যেমন-প্লাটিপাস;

৩. উষ্ণ রক্তের প্রাণী;

৪. চোয়ালে বিভিন্ন ধরনের দাঁত থাকে;

৫. শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়;

৬. হৃৎপিন্ড চার প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট;

হাইড্রা (নিডারিয়া)

১. (Cnidaria) পর্বের প্রাণী (এদের নিডোব্লাস্ট আছে, তাই থেকে নিডারিয়া);

২. হাইড্রা মাংসাশী৷ (এর মানে এরা মাংস খায়, এমন না, বলা যায় এরা অন্য প্রাণীকে খাদ্যরূপে গ্রহণ করে);

৩. ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শ্বসন ও রেচন সম্পন্ন করে;

৪. হাইড্রা মিঠাপানির প্রাণী৷ পানিতে অবস্থিত কোন কঠিন বস্তুর গায়ে এটি লেগে থাকে;

৫. Hydra –এর দেহের একপ্রান্ত খোলা এবং অপর প্রান্ত বন্ধ;

৬. হাইড্রার দেহ অরীয় প্রতিসম;

প্রশ্ন-৩: প্রাণিজগতের প্রধান পর্বগুলাের নাম (ইংরেজিতে);

ইংরেজিতে প্রাণিজগতের প্রধান পর্বগুলাের নাম নিচে দেওয়া হল-

প্রাণীজগের পর্ব মোট নয়টি, সেগুলো হল:

১. পরিফেরা – (Porifera);

২. নিডারিয়া – (Nidaria);

৩. প্লাটিহেলমিনথেস – (Platyhelminthes);

৪. নেমাটোডা – (Nematoda);

৫. অ্যানেলিডা – (Annelida);

৬. আর্থ্রোপোডা – (Arthropoda);

৭. মলাস্কা – (Mollusca);

৮. একাইনোডারমাটা – (Echinodermata) ও

৯. কর্ডাটা – (Chordata);

প্রশ্ন-৪. পর্বগুলাের দুইটি করে শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য উল্লেখ (সাধারণ বৈশিষ্ট্য ব্যতীত);

নিচে সাধারণ বৈশিষ্ট্য ব্যতীত প্রাণীজগতের পর্বগুলোর সনাক্তকারী ২টি করে বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো-

৪.পর্ব গুলো শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যঃ

পর্ব-১: Porifera (পরিফেরা):

(porus = ছিদ্র + ferre = বহন করা। ১৮৩৬ সালে Grant সর্বপ্রথম পর্বটির নামকরণ করেন।)

বৈশিষ্ট্য:

১। দেহপ্রাচীর অস্টিয়া (Ostia) নামক অসংখ্য ক্ষুদ্র ছিদ্রযুক্ত;

২। এরা বহুকোষী হলেও কোষগুলাে সুবিন্যস্ত নয়, তাই সুনির্দিষ্ট কলাতন্ত্রও নেই;

৩। দেহে বিশেষ নালিকাতন্ত্র (Canal system) আছে;

৪। দেহে কোয়ানোসাইট (Coanocyte) নামে এক বিশেষ ফ্লাজেলাযুক্ত কোষ দিয়ে পরিবেষ্টিত এক বা একাধিক প্রকোষ্ঠ (Chamber) রয়েছে;

পর্ব-২: Cnidaria (নিডেরিয়া)

(গ্রীক, Knide = রােমকাটা + aria = সংযুক্ত। ১৮৮৮ সালে Hatschek পর্বটির নামকরণ করেন)

বৈশিষ্ট্য:

১। ভ্রূণ অবস্থায় দুটি কোষস্তর থাকে, বাইরে এক্টোডার্ম (বহিঃত্বক) এবং ভেতরে এন্ডােডার্ম (অন্তঃত্বক); তাই এদের ডিপ্লোব্লাস্টিক বা দ্বিস্তরবিশিষ্ট বা দ্বিত্বকযুক্ত প্রাণী বলে।

২। এরা নিম্নশ্রেণির বহুকোষী অরীয় প্রতিসম প্রাণী । এরা বহুকোষী হলেও এদের দেহে কলাতন্ত্র সুগঠিত নয়।

৩। দেহের ভেতরে সিলেন্টেরন নামে একটি প্রশস্ত গহ্বর থাকে যা একমাত্র মুখছিদ্র পথে বাইরে মুক্ত; কোনাে পায়ুপথ নেই। সিলেন্টেরনে খাদ্য পরিপাক ও পরিবহন ঘটে তাই একে গ্যাস্ট্রোভাসকুলার গহ্বর বলে।

৪। দেহত্বকে বিপুল সংখ্যক নিডােব্লাস্ট (Cnidoblast) নামক দংশক কোষ থাকে। নিডোব্লাস্ট কোষে হিপনোটক্সিন নামক বিষ থাকে।

পর্ব-৩: Platyhelminthes (প্লাটিহেলমিনথেস)

(গ্রীক, platy = চ্যাপ্টা + helminthes = কৃমি। ১৮৫৯ সালে Gogenbour এ পর্বের নামকরণ করেন)

বৈশিষ্ট্য:

১। দেহ পাতা বা ফিতার মতাে উপরে-নীচে চাপা ও দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম।

২। দেহ গহ্বর বা সিলােম নেই; এরা অ্যাসিলোমেট প্রাণী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন অঙ্গের ফাঁকে ফাঁকে মেসেনকাইম নামক কলা থাকে।

৩। শিখা কোষ বা ফ্লেম সেল (Flame cell) এর মাধ্যমে রেচন কাজ পরিচালনা করে।

৪। দেহের পেশীগুলাে স্তরে স্তরে ও গুচ্ছাকারে বিন্যস্ত থাকে।

পর্ব-৪ : Nematoda (নেমাটোডা)

(গ্রীক, nema = সূতা + eides = আকার)

বৈশিষ্ট্যঃ

১। দেহ নলাকার, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম ও দু’দিক সুঁচালাে।

২। পৌষ্টিক নালী সােজা ও শাখাহীন এবং মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত।

৩। মুখচ্ছিদ্র সাধারণত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ওষ্ঠ দিয়ে পরিবেষ্টিত।

৪। দেহ ইলাস্টিন-নির্মিত পুরু কিউটিকলে আবৃত। পোষকের পরিপাকনালীর পাচক রস হতে রক্ষা করে কিউটিকল।

পর্ব-৫ : Annelida (অ্যানিলিডা)

(ল্যাটিন, annulus =আংটি। ১৮০৯ সালে Lamarck পর্বটির নামকরণ করেন।)

বৈশিষ্ট্য:

১। দেহ লম্বাটে ও নলাকার।

২। প্রকৃত খন্ডায়ন উপস্থিত (অথাৎ দেহ অনেকগুলাে আংটির মতাে খন্ডকে বিভক্ত যা দেহের ভেতরে ও বাইরে সুচিহ্নিত)। প্রতিটি খন্ডকে বলে সোমাইট বা খণ্ডক।

৩। প্রকৃত সিলােম উপস্থিত (অর্থাৎ দেহগহ্বর পেরিটোনিয়ামে পরিবেষ্টিত)।

৪। চলন অঙ্গ কাইটিনজাত সিটি (setae) বা জোড় পার্শ্বীয় প্যারাপােডিয়া (Parapodia)।

পর্ব-৬ : Arthropda (আর্থোপােডা)

(গ্রীক, arthro – সন্ধি + poddos = পা। ১৮৪৫ সালে siebold এ পর্বের নামকরণ করেন।)

১। দেহ কাইটিন নির্মিত বহিঃকঙ্কাল দিয়ে আবৃত, নির্দিষ্ট সময় পর পর এ কঙ্কাল পরিত্যক্ত হয়।

২। দেহ খণ্ডায়িত,টাগমাটাইজেসন দেখা যায়। দেহখন্ডক পার্শ্বীয় সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ (Jointed appendages) বিশিষ্ট।

৩। দেহের ভেতরে গহবরটি রক্ত পূর্ণ যা হিমােসিল (Haemocoel) নামে পরিচিত।

৪। মাথার দু’পাশে দুটি পুঞ্জাক্ষি (Compound eye) দেখা যায়।

পর্ব-৭ : Mollusca (মােলাকা)

(ল্যাটিন, molluscus নরম; Aristotle এ পর্বের নামকরণ করেন)

বৈশিষ্ট্যঃ

১। দেহ খণ্ডায়নবিহীন, কোমল ও মাংসল।

২। ম্যান্টল (Mantle) নামক পেশীময় আবরণে দেহ আবৃত। এ আবরণ থেকে নিঃসৃত ক্যালসিয়াম কার্বোনেট ক্ষরণের মাধ্যমে খােলক (Shell) তৈরি করে।

৩। দেহের অঙ্কীয়দেশে মাংসল পা থাকে (পা সাঁতার কাটতে ও গর্ত খননে ব্যবহৃত হয়)।

৪। দেহে সুস্পষ্ট মস্তক, কর্ষিকা ও সংবেদী অঙ্গ রয়েছে।

পর্ব-৮: Echinodermata(একাইনােডার্মাটা)

(গ্রীক , echinos = কাটা + derma = ত্বক। ১৭৩৪ সালে Jackar Kline এর নামকরণ করেন।)

বৈশিষ্ট্য:

১। দেহ অখন্ডকায়িত; পূর্ণাঙ্গ প্রাণী অরীয় প্রতিসম ও পাঁচকোণ বিশিষ্ট; লার্ভা দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম।

২। দেহের বহির্ভাগ চুননির্মিত কাঁটা দিয়ে আচ্ছাদিত।

৩। দেহ মৌখিক (Oral) ও বিমৌখিক (Aboral) তলে বিভেদিত।

৪। দেহের ভেতরে সিলােম নামে বিশেষ গহ্বর থেকে সৃষ্ট পানি সংবহনতন্ত্র (Water Vascular System)রয়েছে। এর সংশ্লিষ্ট নালিকা পদ (Tube feet) এদের চলন অঙ্গ।

পর্ব-৯: Chordata (কর্ডাটা)

(গ্রীক, chorda = রজ্জু)

১। ভ্রূণাবস্থায় অথবা সারাজীবন পৃষ্ঠ মধ্যরেখা বরাবর দন্ডাকৃতি ও স্থিতিস্থাপক নিরেট নটোকর্ড(Notochord) থাকে উন্নত প্রাণিদের পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় এটি মেরুদন্ড (Vertebral column) দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়। এসব প্রাণিকে তখন মেরুদন্ডী প্রাণী বলে।

২। নটোকর্ডের ঠিক উপরে লম্বা অক্ষ বরাবর ফাপা, নলাকার, স্নায়ুরজ্জু বা নার্ভকর্ড (Nerve cord) থাকে [মেরুদন্ডী প্রাণিদের ক্ষেত্রে নার্ভ কর্ডটি পরিবর্তিত হয়ে সম্মুখপ্রান্তে মস্তিষ্ক ও পশ্চাতে সুষুম্নাকান্ড (Spinal cord) গঠন করে।

৩। জীবনের যে কোনাে দশায় বা সারাজীবন গলবিলের দু’পাশে কয়েক জোড়া ফুলকা রন্ধ (Gill slits) থাকে (উন্নত কর্ডেটে ফুলকা রত্বের বিলােপ ঘটে)।

প্রশ্ন-৫: পর্বগুলির একটি করে প্রাণীর উদাহরণ (বৈজ্ঞানিক নাম ইংরেজিতে);

একটি করে প্রাণীর উদাহরণ পর্বগুলির বৈজ্ঞানিক নাম ইংরেজিতে প্রদান করা হলো-

পর্বগুলোর একটি করে প্রাণীর উদাহরন বৈজ্ঞানিক নাম সহঃ

৩. প্রাণীজগতের প্রধান পর্বগুলোর নাম উল্লেখঃ পর্ব মোট নয়টি। নিচে উদারনসহ লেখা হলঃ

১. পরিফেরা – (Porifera)

উদাহরণঃ ১. Sycon gelatinosum (স্পঞ্জ), ২. Leucosolenia complicata;

২. নিডারিয়া – (Nidaria)

উদাহরণঃ ১. Hydra virdis (হাইড্রা), ২. Obelia geniculata (প্রবাল);

৩. প্লাটিহেলমিনথেস – (Platyhelminthes)

উদাহরণঃ ১. Dugesia tigrina (প্ল্যানেরিয়া), ২. Bipalium kewensi

৪. নেমাটোডা – (Nematoda)

উদাহরণঃ ১. Trichinella spiralis (চাবুক কৃমি), ২. Trichuris trichiura

৫. অ্যানেলিডা – (Annelida)

উদাহরণঃ ১. Neanthes virens (নেরিস), ২. Aphrodite aculeata

৬. আর্থ্রোপোডা – (Arthropoda)

উদাহরণঃ ১. Palaemon carcinus (চিংড়ি), ২. Carcinus maenas (কাঁকড়া)

৭. মলাস্কা – (Mollusca)

উদাহরণঃ ১. Neopilina galatheae (নিওপিলিনা), ২. Cryptochiton stelleri

৮. একাইনোডারমাটা – (Echinodermata)

উদাহরণঃ ১. Antodon bifida, ২. Cenocrinus asteria

৯. কর্ডাটা – (Chordata)

উদাহরণঃ ১. Ascisia mantula, ২. Homo sapiens

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top