বাংলাদেশের কয়েকটি প্রাচীন নগর সভ্যতার নাম, অবস্থান, প্রাপ্ত নিদর্শন, সংস্কৃতির সাথে প্রাচীন বাংলার সাংস্কৃতির সাদৃশ্য ও বৈশাদৃশ্য অনুসন্ধান করে একটি প্রতিবেদন তৈরি কর।

ষষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্য বইয়ের দ্বিতীয় এসাইনমেন্ট দেয়া হয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণীর দশম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট। এর আগে দ্বিতীয় সপ্তাহে সরকার ২৭ মার্চ ২০২১ ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্য বইয়ের প্রথম এসাইনমেন্ট দেয়া হয়েছিল।

অ্যাসাইনমেন্ট : বাংলাদেশের কয়েকটি প্রাচীন নগর সভ্যতার নাম, অবস্থান, প্রাপ্ত নিদর্শন, বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে ছকের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত কর এবং বর্তমান বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে প্রাচীন বাংলার সাংস্কৃতির সাদৃশ্য ও বৈশাদৃশ্য অনুসন্ধান করে একটি প্রতিবেদন তৈরি কর।

বাংলাদেশের কয়েকটি প্রাচীন নগর সভ্যতার নাম, অবস্থান, প্রাপ্ত নিদর্শন, বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে ছকের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত

বাংলাদেশের কয়েকটি নগর সভ্যতা, সভ্যতার অবস্থান, প্রাপ্ত নির্দশন, বাণিজ্যিক গুরুত্ব ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের তালিকার ছক নিচে উপস্থাপন করা হলো :

নমুনা উত্তরঃ

সভ্যতার নাম
সভ্যতার অবস্থান
প্রাপ্ত নিদর্শন সমূহ
বাণিজ্যিক গুরুত্ব
সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য
সিন্ধু সভ্যতা
সিন্ধু সভ্যতা ভারত উপমহাদেশের সিন্ধু, সরস্বতী, হাকরা নদ নদীর
অববাহিকায় গড়ে উঠে।
পোড়ামাটির, চুনা পাথর ও ব্রোঞ্জের বেশ কয়েকটি মূর্তি সিন্ধু সভ্যতায়
পাওয়া গিয়েছিল। তাছাড়া এই সভ্যতায় দেখা মিলেছিল অসংখ্য সিল।
সিন্ধু সভ্যতায় অন্তর্বাণিজ্য ও বহির্বাণিজ্যের ব্যবস্থা ছিল।
নগরগুলো ছিল উন্নতমানের। রাস্তাঘাট, সড়ক, ড্রেন ছিল
পরিকল্পিতভাবে।
দ্বিতীয় নগর সভ্যতা
ভারতের গঙ্গা নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠে দ্বিতীয় নগর সভ্যতা। নরসিংদী
জেলার বেলাব উপজেলায় উয়ারী-বটেশ্বর এবং বগুড়ার মহাস্থানগড়
নিয়ে এই সভ্যতার অবস্থান।
বাংলাদেশের উয়ারী-বটেশ্বর এবং পান্ড্রুনগর (মহাস্থানগড়) দ্বিতীয় নগর
সভ্যতার নিদর্শন।উয়ারী-বটেশ্বরে প্রাপ্ত ধাতব অলংকার, পাথর ও কাচের পুঁতি, ইট,
নির্মিত স্থাপত্য, একটি উন্নত সভ্যতার পরিচয় বহন করে।
উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একটি নদীবন্দর এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক
বাণিজ্যের কেন্দ্র। ভূমধ্যসাগর এলাকার সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক
প্রতিষ্ঠা হয়।
দ্বিতীয় নগর সভ্যতা সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে ছিল পরিপূর্ণ। বিশেষ করে
পান্ড্রুনগরের সাথে ভাতর উপমহাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক
থাকায় সাংস্কৃতিক লেনদেন হতো। ফলে ধীরে ধীরে পান্ড্রুনগর এলাকায়
ঘনবসতি গড়ে উঠে। চীনদেশের পরিব্রাজক ও ধর্মযাজক পান্ড্রুনগরে
বৌদ্ধবিহার ও ব্রাহ্মণ্য মন্দির দেখেছিল যা আধুনিককালের আবাসিক
বিশ্ববিদ্যালয়য়ের সাথে তুলনা করা যায়।

বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে প্রাচীন সংস্কৃতির সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য অনুসন্ধান করে একটি প্রতিবেদন

নমুনা সমাধান
২১ শে জুলাই, ২০১৮
বরাবর,
প্রধান শিক্ষক
বাগমনিরাম বালক উচ্চ বিদ্যালয়
দামপাড়া, চট্টগ্রাম।
বিষয়: বর্তমান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিকের সাথে প্রাচীন বাংলার সাংস্কৃতিকে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য বিষয়ক প্রতিবেদন প্রস্তুত।
জনাব,
বিনীত নিবেদন এই যে, গত ১৮ জুলাই ২০২১ তারিখে প্রকাশিত আপনার আদেশ নং যাহার স্মারক বা.বা.উ.বি ০৯/২০২১ অনুসারে “সাংস্কৃতিক” শিরোনামে প্রতিবেদন পেশ করছি।
বর্তমান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিকের সাথে প্রাচীন বাংলার সাংস্কৃতিকে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য নিম্নে দেয়া হলো:
বর্তমানে যে জীবনব্যবস্থা দেখা যায় তা হঠাৎ করে হয়নি। এর ভীত গড়া হয়েছে হাজারো বছর পূর্বে। কালে কালে এর পরিবর্তন ঘটেছে। তবে কিছু প্রাচীন নিদর্শন এখনো অক্ষুন্ন আছে। যা যত্ন সহকারে সংগ্রহ করা হয়েছে। আমাদের দেশে যে সকল সংস্কৃতি পরিলক্ষিত হয় তার যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রাচীন কাল থেকে। বর্তমানে আমাদের দেশে মুসলিম ধর্মের মানুষ অধিক। কিন্তু প্রাচীন যুগে ইসলাম ধর্মের প্রচলন ছিল না। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ছিল অধিক রীতি নীতি, যার প্রভাব অনেকটা রয়ে গেছে এখন। তাছাড়া বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মেরও রীতিনীতি পরিলক্ষিত হয়।
প্রাচীন বাংলা ছিল কৃষি নির্ভর। তাছারা গুড় ও চিনি রপ্তানি করেও প্রচুরভাবে বাণ্যিজিক প্রসার ঘটে। বর্তমানে সেসব ফসলের পাশাপাশি আরো অনেক ফসল যেমন-পাঠ, আখ, চা ইত্যাদি রপ্তানি হচ্ছে।
প্রাচীন সভ্যতায় মসলিন কাপড়ের ব্যাপক চাহিদা ছিল। দেশ বিদেশে এর ব্যাপ রপ্তানি হতো। বর্তমানে এর চাহিদার সাথে সাথে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাপক পরিমাণে। তাছাড়া বাদ্যযন্ত্র, ইলেকট্রনিক জিনিসের তখন তেমন চাহিদা ছিল না কিন্তু বর্তমানের সাংস্কৃতিকে এর ব্যবহার বিপুল।

প্রকাশিত অ্যাসাইনমেন্ট সমাধানটি শুধুমাত্র নমুনা উত্তর। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আমরা প্রতি শ্রেনীর, সকল সপ্তাহের, সকল বিষয়ের নমুনা সমাধান এখানে দিয়ে থাকি। সুতরাং শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ এই উত্তর যেন হুবহুব অ্যাসাইনমেন্ট আকারে জমা না দেওয়া হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top