দৈনন্দিন জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার” শিরোনামে একটি প্রবন্ধ

অ্যাসাইনমেন্টঃ কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে তোমার স্কুল বন্ধ আছে। তোমার বাবা তার জমির ফসলের উন্নয়নে পরামর্শের জন্য কৃষি অফিসে যেতে পারছে না। তোমার দাদি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তোমার মা, তোমার বাবাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা জন্য ডাক্তার কে ফোন করতে বলেন”। উপরের প্রেক্ষাপটের আলোকে- “দৈনন্দিন জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার” শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লেখ। (২০০ শব্দ)

  • ভূমিকা,
  • শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার,
  • কৃষি ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার,
  • পরিবেশ ও আবহাওয়া,
  • উপসংহার;

দৈনন্দিন জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার

ভূমিকাঃ যন্ত্র বা কৌশল ব্যবহার করে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন করাই হচ্ছে প্রযুক্তি। প্রতিদিন আমরা নানা কাজে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করি। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে আরও উন্নত, সহজ এবং আরামদায়ক করেছে। যেমন – বর্তমানে আমাদের মোবাইলের শব্দ শুনে ঘুম ভাঙ্গে। কিন্তু কিছুদিন আগেও আমাদের সকাল বেলা মোরগের ডাক এবং পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙ্গত।

আমরা প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে প্রযুক্তির ওপর নির্ভর হয়ে পড়ছি। তাই বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যাতে এগুলো পরিবেশ দূষণের কারন না হয়। আমাদের জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার হয়। যেমন – বাসস্থান, যাতায়াত, শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসা, খেলাধুলা ও বিনোদন ইত্যাদি।

নিম্নে এসব ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা দেওয়া হলো –

  • ১. মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘরে বসেই পরীক্ষার ফলাফল জানা যায়।
  • ২. মোবাইল ফোন ব্যবহার করে টাকা পাঠানো ও গ্রহণ করা যায়।
  • ৩. অনলাইন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে ঘরে বসেই চাকরির দরখাস্ত করা যায় এবং পরীক্ষার প্রবেশপত্র অনলাইন থেকে প্রিন্ট করা যায়।
  • ৪. অনলাইন টিকিটিং সিস্টেমের মাধ্যমে ঘরের বাইরে বা স্টেশনে না গিয়েই ট্রেনের এবং প্লেনের টিকিট কেনা যায়।
  • ৫. অনলাইনে ইন্টারনেটের সহায়তায় সব ধরনের পত্রিকা (যা ইন্টারনেটে থাকে) পড়া যায়।
  • ৬. ইন্টারনেটে ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় পণ্যের অর্ডার দেওয়া এবং বিল পরিশোধ করা যায়।
  • ৭. এক স্থান থেকে অন্য স্থানে টাকাপয়সা পাঠানো যায়।
  • ৮. ই-বুক সুবিধা পাওয়া যায়।

চিকিৎসা সেবায় তথ্যপ্রযুক্তি

তথ্যপ্রযুক্তি চিকিৎসা সেবায় অভাবনীয় অগ্রগতি সাধন করেছে। এ ছাড়াও দেশে টেলি-মেডিসিন সেবার দ্রুত বিকাশ ঘটছে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার স্কাইপের মাধ্যমে ফেনী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে।

একবার অনলাইনে নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে রোগী বাড়িতে বসেই তথ্য পেয়ে যাবেন তার ব্যবহারকৃত মোবাইল ফোনে। যে সব ডাক্তার এই সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন তারা পুনঃপুন আপডেট পাবেন সেই সঙ্গে রেজিস্ট্রেশনকৃত রোগীর সার্বিক ব্যবস্থাপত্র দিতে পারবেন খুব নিমিষেই। এই সফটওয়্যার ব্যবহারের মধ্য দিয়ে চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যেমন রোগের চিকিৎসা চলছে, তেমনি গ্রামাঞ্চল বা মফস্বলের প্রশাসনিক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে;

শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তি

তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ ডিজিটাল নজরদারীর আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ছবিযুক্ত পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেইজ তৈরি করে উক্ত ডাটাবেইজের বহুমাত্রিক ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহকে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় নেয়াও হচ্ছে।

শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে যে পদক্ষেপগুলো নেয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে অনলাইনে ভর্তি আবেদন, শিক্ষার্থীদের স্বয়ংক্রিয় প্রবেশপত্র, প্রশংসাপত্র, ডিজিটাল আইডি কার্ড, ছাড়পত্র প্রিন্ট, প্রতিষ্ঠানের সব অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার ফলাফল তৈরি ও অনলাইনে ডাউনলোড, পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, গ্রেডিং সিস্টেমের ফলাফল প্রকাশ, শিক্ষক/শিক্ষার্থীর বায়োমেট্রিক অনলাইন হাজিরা ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের পেমেন্ট নিশ্চিত করার জন্য এসএমএস, শিক্ষক/কর্মচারীদের ছুটি ব্যবস্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের স্বয়ংক্রিয় হিসাব ব্যবস্থাপনা, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি প্রদান ব্যবস্থা, সিসি ক্যামেরার সাহায্যে অনলাইন নজরদারী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছে এসএমএস নোটিফিকেশন প্রেরণসহ আরও অনেক সুবিধা।

শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিতকরণে শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। বিশ্বায়নের যুগে উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়েছে। শিক্ষার প্রচলিত ধারার শিখন-শেখানো পদ্ধতির পরিবর্তে শিখন-শেখানো পদ্ধতিতে তথ্যপ্রযুক্তির সংযোগ ঘটানো হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণের পাশাপাশি শ্রেণীকক্ষে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট মডেম ও স্পীকারের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। এ শ্রেণীকক্ষকেই বলা হচ্ছে ‘মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম’। ‘তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা নয়, শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের সব মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, যেন কঠিন, দুর্বোধ্য ও বিমূর্ত বিষয়সমূহকে শিক্ষকগণ ছবি, এ্যানিমেশন ও ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করার মাধ্যমে শ্রেণী কার্যক্রমকে আনন্দময় করে তুলতে।

কৃষিতে তথ্যপ্রযুক্তি

বর্তমানে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে গবেষকরা অনুপ্রাণিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপে। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রি এ পর্যন্ত ৬৭টি এবং বিনা ১৪ টি নতুন উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব নিয়ে এসেছে। ডায়াবেটিকবান্ধব ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ ধানের জাতের গবেষণায় বিশ্বে প্রথম সফল হয়েছেন বাংলাদেশের গবেষকরা।

বর্তমান সরকারের সময় কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন সেবা প্রদানের জন্য কাজ করছে কৃষি কল সেন্টার থেকে বিনামূল্যে কৃষিবিষয়ক সব তথ্যই যা যুক্ত হয়েছে তথ্য বাতায়নে। আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসেই কৃষকরা কৃষিবিষয়ক সব পরামর্শ পাচ্ছেন। কৃষি বিপণনে মোবাইল ব্যাংকিং, বিকাশ কৃষকবান্ধব হিসেবে কাজ করে চলেছে। এর সঙ্গে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে ড্রোন সিস্টেম অটোকপ্টার যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা এবং যা রেডিও পদ্ধতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সরকারের কৃষি গবেষণার ক্ষেত্রে বাস্তবমুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিবছরে ৫টি ফসল উৎপাদনের পদ্ধতি উদ্ভাবিত হচ্ছে।

সৌরশক্তি, বায়ো ফুয়েল ও বিদ্যুতের অন্যান্য বিকল্প শক্তি আবিষ্কৃত হয়েছে, যার মাধ্যমে কৃষকরা বাংলাদেশের গবেষকদের আবিষ্কৃত কৃষিযন্ত্রাদি ব্যবহার করে সফলতা পাচ্ছেন। দেশে কৃষি প্রযুক্তির বহুল ব্যবহারের ফলে শষ্য উৎপাদন বেড়েছে বহুগুণ। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিরল। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ধান ও মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

জাতীয় কৃষি নীতিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার প্রদান করে জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ও জাতীয় ক্ষুদ্রসেচ নীতি বাস্তবায়ন করেছে। এক সময় উত্তরাঞ্চলকে বলা হতো মঙ্গাপ্রবণ এলাকা। বর্তমানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শস্য উৎপাদনের পদক্ষেপের ফলে মঙ্গাপ্রবণ এলাকায় আজ উন্নয়নের জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় ভাসমান মাছ চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবনের মাধ্যমে মাছ চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ভাসমান মাছ চাষ পদ্ধতির সৃজনশীল এই চিন্তাধারা জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ করেছে।

পরিবেশ ও আবহাওয়া:

আইসিটি ব্যবহার করে অনেক আগেই ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া যায়। আবার রেডিও-টেলিভিশনে উপকূলের মানুষকে সতর্ক করে দেওয়া হয়।

উপসংহার:

তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা যে শুধুমাত্র আমাদের নিজের জীবনটাকে সহজ করতে পারি তা নয়,আমরা কিন্তু আমাদের দেশটাকে ও পাল্টে ফেলতে পারি। জ্ঞান হচ্ছে পৃথিবীর সম্পদ, আর যে দেশের মানুষ লেখাপড়া শিখে শিক্ষিত, যারা জ্ঞান চর্চা করে সেই দেশ হচ্ছে সম্পদশালী দেশ। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি শেখার দরজার সবার জন্য খোলা। তাই আমরা যত তাড়াতাড়ি এই প্রযুক্তি শিক্ষা নিতে পারবো, ততো তাড়াতাড়ি আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে পারব এবং দেশকে সম্পদশালী করে গড়ে তুলতে পারব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top