অন্যান্য

ঘরে বসে আয় করার উপায় | ১২টি উপায়ে অনলাইনে সহজে আয় করুন

বর্তমানে ঘরে বসে আয় করা যায়, এই কথাটি আর কাল্পনিক নয়। কিন্তু কিভাবে ঘরে বসে আয় করা যায় তা সম্পর্কে আমরা অনেকে এখন পর্যন্ত জানিনা। অথবা আমরা এই সম্পর্কে জানলেও আয় করার কিছু উপায় সম্পর্কে বা আয় করার নির্দিষ্ট পথ বা পদ্ধতি সম্পর্কে আমরা এখন পর্যন্ত জানিনা। তাই আপনারা যারা ইতিমধ্যে আমাদের ওয়েবসাইটের ঘরে বসে আয় করার উপায় ২০২২ বা অনলাইনে আয় করার উপায় সম্পর্কে জানার জন্য এসেছে তাদেরকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।

আমরা আশা করছি আপনারা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে ঘরে বসে আয় করার সমস্ত উপায় গুলো জানতে পারবেন এবং মোবাইল দিয়ে কিভাবে আয় করা যায় সেগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন। আমাদের পক্ষ হতে বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য আমাদের সাথেই থাকবেন। তাহলে চলুন এবার শুরু করি আমাদের আজকের মূল বিষয়।

ঘরে বসে আয় করার উপায় ২০২২

আমরা এখন হরহামেশাই ঘরে বসে আয় করা যায় কথাটি শুনতে পাই। কিন্তু ঘরে বসিয়ে কিভাবে এত সহজে আয় করা যায় তা আমরা অনেকেই জানিনা। তবে এ ঘরে বসে আয় করার জন্য অবশ্যই আপনাকে যেকোন একটি বিষয়ের ওপর দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং ধৈর্য সহকারে সেই কাজটি করে যেতে হবে। কারণ বর্তমানে অন্যান্য দেশের মতো করে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আর সহজে আয় করার জন্য মানুষ এখন অনলাইন মাধ্যম বেছে নিচ্ছে। যেহেতু সকলে অনলাইনের মাধ্যমে আয় করতে চাইছে সেহেতু অনলাইনে এখন বর্তমানে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গিয়েছে। তাই অনলাইনে আয় করার জন্য বা ঘরে বসে আয় করার জন্য আপনাকে অবশ্যই যেকোনো একটি বিষয়ের ওপর দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তাই আপনারা যাতে সম্পূর্ণ গাইডলাইন পেয়ে যান তার জন্য আমরা আপনাদের সামনে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন বিষয়গুলো তুলে ধরেছি।

কিভাবে ঘরে বসে অনলাইনে আয় করবেন?

এখন আপনাদের মনে অবশ্যই প্রশ্ন আসবেই কিভাবে ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে আয় করবেন। ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে আয় করার জন্য আপনাদের সবার আগে প্রয়োজন যে কোন একটি বিষয়ের উপর দক্ষতা এবং অনলাইনে যেহেতু আয় করবেন সেতু আপনাদের ইন্টারনেট সংযোগ এবং যেকোন ডিজিটাল ডিভাইস এর প্রয়োজন হবে ( কম্পিউটার, ল্যাপটপ অথবা স্মার্টফোন)। তবে আপনারা যদি ফ্রিল্যান্সিং করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাদের কাছে কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে।

আপনারা এখন ভাবতে পারেন তাহলে ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের ওপর দক্ষতা অর্জন করে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারের মাধ্যমে ঘরে বসে এবং নিজের ইচ্ছে মত সময়ের কাজ করা। আর ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনাকে অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানতে হবে এবং আপনি যে বিষয়টির ওপর দক্ষতা অর্জন করতে চান সে বিষয়টি সম্পর্কে জেনে সে বিষয়ে খুটিনাটি সকল বিষয় সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। অর্থাৎ এক কথায় বলতে গেলে ঘরে বসে অনলাইনে আয় করার জন্য আপনাকে যেকোন একটি বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করতে হবে, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ সংগ্রহ করতে হবে এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে।

মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আয় করার উপায়

বর্তমানে পৃথিবী প্রযুক্তির উচ্চ শিখরে রয়েছে। আমরা ছোটবেলা থেকে জানতাম মোবাইল শুধুমাত্র কথা বলার জন্য ব্যবহার করা হয় কিন্তু এখন মোবাইল প্রযুক্তি এতটাই উন্নতি হয়েছে যে কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মত সার্ভিস মোবাইলে পাওয়া যায়। হাতের মুঠোয় ছোট একটি ডিভাইসের মাধ্যমে পৃথিবীর সকল খবরা-খবর রাখা যায় এবং সেইসাথে এই ডিভাইস টি ব্যবহার করে বিভিন্ন ভাবে অনলাইনের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব।

তবে আমরা আপনাকে এমন ভাবে আসার দিব না যে আসা আপনাদের স্বপ্নকে নষ্ট করে দেয়। আপনি যদি ঘরে বসে আয় করার জন্য এই পথটি পেশা হিসেবে বেছে নেন অথবা ফ্রিল্যান্সিং পেশা হিসেবে বেছে নেন তাহলে অবশ্যই বলব কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার করার জন্য। কারণ কম্পিউটার বা ল্যাপটপে বড় আকারের ফাইল এবং ভারী ভারী সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করতে হয়। আর এগুলো কোনোভাবেই মোবাইলে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তাই অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিং করার ক্ষেত্রে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার করা শ্রেয়। কিন্তু এমন কিছু আয়ের এর উৎস রয়েছে যেখান থেকে আপনারা মোবাইল ব্যবহার করে আয় করতে পারবেন। আপনাদেরকে আমরা তা নিম্নে বিস্তারিত জানিয়ে দিব।

অনলাইনে আয়

অনলাইনে আয় করার উৎস সমূহ

অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসে আয় করার উৎস সমূহ আপনাদের জন্য নিম্নে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হলো।

১. ইউটিউব থেকে আয়

বর্তমানে ঘরে বসে আয় করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত এবং বিশ্বাসযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে ইউটিউব। বিশ্বের মধ্যে যতগুলো ওয়েবসাইট রয়েছে তার মধ্যে শীর্ষস্থানীয় একটি ওয়েবসাইট হচ্ছে ইউটিউব। প্রতিদিন ইউটিউবে বিলিয়ান বিলিয়ান ভিউয়ার থাকে। তাই আপনারা চাইলে খুব সহজেই ইউটিউব থেকে আয় করার জন্য ইউটিউব সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে আয় করতে পারেন।

আমরা যে কোন বিষয়ে জানার জন্য গুগলের সার্চ করে থাকি। ঠিক তেমনি বর্তমানে যে কোন বিষয়ে জানার জন্য মানুষ ভিডিও আকারে দেখার উদ্দেশ্যে ইউটিউবে সার্চ করে থাকে। তাই আপনারা একট নিস বেছে নিয়ে গঠনমূলক কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন। এখন ভাবছেন ইউটিউব থেকে আসে কিভাবে? আপনি যখন ইউটিউবে আপনার কনটেন্ট আপলোড করবেন তখন আপনার সেই কনটেন্টগুলোর ভিউ এর ওপর নির্ভর করে আপনার অর্থ উপার্জন হবে।

তবে অবশ্যই ইউটিউব থেকে আয় করার জন্য আপনাকে ইউটিউব এর শর্ত মেনে আপনার চ্যানেলের মনিটাইজেশন চালু করতে হবে এবং ইউটিউব এর নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হবে। ইউটিউব ভিডিও থেকে সাবস্ক্রাইব, লাইক, কমেন্ট এবং ভিউ এর ওপর আয় আসে। সুতরাং আপনারা ইউটিউব একটি গঠনমূলক ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনারা আপনাদের স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন। ইউটিউব থেকে আয় করার নিয়ম গুলো হচ্ছে-  রান্না, ভ্লগ, শিক্ষনীয় ভিডিও, সেলাই কাজ সম্পর্কে ভিডিও, বিনোদন সম্পর্কিত ভিডিও ইত্যাদি।

২. ব্লগিং থেকে আয়

ঘরে বসে আয় করার অন্যতম একটি মাধ্যম হচ্ছে ব্লগিং। আপনারা স্মার্টফোনের মাধ্যমে ব্লগিং করতে পারবেন। তবে স্মার্টফোনে ব্লগিং করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। ব্লগিং করে আয় করার জন্য আপনাকে একটি ব্লগ সাইট তৈরি করতে হবে। আর এই ব্লগ সাইটটি হতে পারে ফ্রী অথবা পেইড। আপনাদের প্রয়োজন অনুসারে আপনারা ফ্রি ব্লগ সাইট তৈরি করতে পারেন আবার পেইড ব্লগ সাইট তৈরি করতে পারেন। তবে অবশ্যই ব্লগ সাইট তৈরি করার জন্য আপনাকে ডোমেইন এবং হোস্টিং করতে হবে।

এরপর আপনি আপনার ইচ্ছে মত যে কোন নিস সিলেক্ট করে সেই নিজের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন কন্টেন্ট তৈরি করতে পারেন। ফ্রি কন্টাক্ট গুলো আপনারা নিজেরা লিখতে পারেন অথবা অন্যকে দিয়েও লেখাতে পারে। ব্লগ সাইটের আয়াশের মূলত এডসেন্স এর উপর। তাই অবশ্যই ব্লগ সাইটে নিয়মিত কনটেন্ট পাবলিশ করতে হবে এবং এডসেন্স চালু করতে হবে। যদি আপনাদের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থাকে তাহলে আপনাদের ব্লগ সাইটে কাজ করতে অনেক সুবিধা হবে।

৩. কনটেন্ট রাইটিং থেকে আয়

যারা ব্লগিং সাইট নিয়ে কাজ করেন তাদের অবশ্যই কন্টেন লিখতে হয়। আর লেখার জন্য প্রয়োজন হয় কনটেন্ট রাইটার। যারা ব্লগ সাইট নিয়ে কাজ করেন তারা অবশ্যই কনটেন্ট এর ওপর বেশ করে আয় করে থাকেন। আপনারা চাইলে লেখার ওপর দক্ষতা অর্জন করে লিখতে পারেন। কন্টেন লেখার জন্য আপনারা মোবাইল সহজেই ব্যবহার করতে পারে এ ক্ষেত্রে কম্পিউটার বা ল্যাপটপের তেমন কোনো প্রয়োজন নেই। আপনারা খুব সহজেই গুগোল ডকস এর মাধ্যমে কনটেন্ট লিখে মোবাইল দিয়ে আয় করতে পারবেন।

প্রফেশনাল রাইটার হতে গেলে অবশ্যই আপনাকে রাইটিং এর খুটিনাটি বিষয় জানতে হবে এবং রাইটিং এর উপর দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কনটেন্ট রাইটিং করার জন্য যে ফরমেট রয়েছে সে ফরমেট সম্পর্কে জানতে হবে এবং এসইও সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।ব্লগ যারা পড়েন তারা যাতে আপনার কনটেন্ট সহজভাবে পড়তে পারে এবং আপনার কনটেন্ট পড়ে তাদেরকে যাতে আকর্ষণ করতে পারেন সে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

সহজ উপায়ে আয় অনলাইনে

৪. অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস থেকে আয়

বর্তমানে ঘরে বসে আয় করার সবচেয়ে প্রচলিত একটি কথা হচ্ছে অ্যানড্রয়েড অ্যাপস এর মাধ্যমে আয় করা যায়। আপনারা গুগল প্লে স্টোর থেকে নির্দিষ্ট কিছু অ্যাপস এর মাধ্যমে ঘরে বসে আয় করতে পারবেন। শুধুমাত্র আপনাদের সেই সকল অ্যাপসমূহ ডাউনলোড করতে হবে এবং যেরকমভাবে অ্যাপসগুলোর নির্দেশনা দেয়া থাকবে সেরকম ভাবে কাজ করতে হবে। আর আপনারা এ ধরনের কাজ করার মধ্যে দিয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। নির্দিষ্ট অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস গুলো হচ্ছে-

  • Google’s Opinion Rewards
  • Frapp
  • Perk App
  • Cointiply
  • True Balance
  • Swagbucks
  • Foap
  • Make Money- Free cash app
  • Meesho
  • Picxele

সুতরাং আপনারা এ ধরনের অ্যাপস গুলো মোবাইলে ব্যবহার করার মাধ্যমে মোবাইল দিয়ে খুব সহজে অনলাইনে আয় করতে পারবেন।

৫. ঘরে বসে গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয়

ঘরে বসে আয় করার নিশ্চিত উপায় এর একটি হলো গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয়। আপনার ওয়েবসাইট অথবা ব্লগ এ নির্ধারিত স্থানে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করা যায়। গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট এ বিজ্ঞাপন দেখানো হবে। ব্যবহারকারীরা বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে আপনি গুগল থেকে টাকা পাবেন। অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসে আয়ের সবচেয়ে নিরাপদ ও সহজ হলো গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে টাকা আয়। আপনি পৃথিবীর যে কোন স্থানে থাকেন না কেন নিয়মিত আপনার সাইটে ভিজিটর বাড়ানোর মাধ্যমে আপনার আয় বৃদ্ধি করতে পারেন।

৬. অনলাইনে ব্যবসায় এর মাধ্যমে আয়

বর্তমানে ব্যবসায় করার অন্যতম একটি মাধ্যম হচ্ছে অনলাইন। করোনাকালীন সময়ে মানুষের ব্যবসায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল।ব্যবসায় ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে এই অনলাইনের মাধ্যমে। আপনারা এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব সহজে কোন পণ্য বিক্রয় করতে পারবেন। ঘরে বসে মানুষ এখন বেশি করে থাকে। তাই তাদের চাহিদা এবং আপনার প্রয়োজন মেটানোর জন্য অবশ্যই আপনারা অনলাইনের মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারবেন।

আর এই ধরনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার জন্য আপনাদের কাছে স্মার্টফোনে যথেষ্ট। আপনার ব্যবসায় এর পণ্য ছবি তুলে তা আপনারা ফেসবুকের ব্যবসায় পেজ অথবা আপনাদের যদি ওয়েব সাইট থাকে সেই ওয়েবসাইটে সেই পণ্যের ছবিটি দিয়ে দাম নির্ধারণ করে অনলাইনের মাধ্যমে আপনারা বিক্রয় করতে পারবেন। তবে আপনারা যদি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অর্থাৎ ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে আপনার ব্যবসার পণ্যটি ক্রয় করতে চান তাহলে একটি ল্যাপটপ অথবা ডেস্কটপ ব্যবহার করা উত্তম হবে।

৭. সার্ভে করে আয়

সার্ভিস শব্দটির সাথে আমরা অনেকে পরিচিত নই। সার্ভে হচ্ছে মূলত যেকোনো বিষয়ের ওপর প্রশ্নের উত্তর দেয়া। সার্ভে কাজগুলো বাংলাদেশ হয় না বললেই চলে। তবে ইউরোপ এবং আমেরিকার দেশগুলোতে তার ব্যাপক প্রচলিত। ঘরে বসে খুব সহজে আয় করার জন্য সার্ভে অন্যতম একটি মাধ্যম। আপনারা বাংলাদেশ বসে বাহিরের দেশের ইউএসএ অথবা ইউকে অথবা ক্যানাডার আইপি ব্যবহার করে সার্ভে করে আয় করতে পারেন।

সার্ভে করার জন্য আপনাদের ইংরেজি সম্পর্কে ভালো দক্ষতা থাকতে হবে এবং যে বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হবে সে বিষয়ে সম্পর্কে আপনাদেরকে ভালো ধারণা থাকতে হবে। সার্ভে করার জন্য আপনাদের অবশ্যই কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। মোবাইল দিয়ে সার্ভে করা যায় তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী নয়।

অনলাইনে আয়ের পদ্ধতি

৮. ঘরে বসে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো আপনার ওয়েবসাইটে অন্যের প্রোডাক্ট প্রচারের মাধ্যমে বিক্রি করা। যার মাধ্যমে আপনি বিক্রিত প্রোডাক্টের দাম থেকে নির্ধারিত হারে কমিশন পাবেন। আপনার ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে যত বেশি প্রোডাক্ট বিক্রি হবে তত বেশি আয় হবে আপনার। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে অ্যামাজন।

৯. ফেসবুক থেকে আয়

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। ফেসবুকে বিভিন্ন বিজনেস পেজ তৈরি করে আপনারা ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন এবং সেখান থেকে ঘরে বসে খুব সহজে আয় করতে পারবেন। সেইসাথে ফেসবুক থেকে আয় করার জন্য আপনারা বিভিন্ন কন্টেন্ট তৈরি করতে পারেন যেগুলো ভিডিও আকারে আপনাদের নিজস্ব পেইজে আপলোড করতে পারেন এবং সেই ভিডিওর ভিউয়ার হিসেবে আপনারা ফেসবুক থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় করতে পারবেন।

ফেসবুক থেকে আয় করার জন্য আপনারা আপনাদের ব্যবহৃত স্মার্ট ফোন ব্যবহার করতে পারেন তবে যদি ফেসবুক থেকে আপনারা পেশাদার হিসেবে আয় করতে চান তাহলে অবশ্যই কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার করতে হবে সাথে ইন্টারনেট সংযোগ রাখতেই হবে।

১০. গ্রাফিক ডিজাইন শিখে আয়

ফ্রিল্যান্সিং করার অন্যতম জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হচ্ছে গ্রাফিক ডিজাইন। বিভিন্ন উপায়ে আপনারা গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ শিখে এবং গ্রাফিক ডিজাইনে নির্দিষ্ট একটি নিজের ওপর দক্ষতা অর্জন করে সেই অনুসারে মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট তৈরি করার মাধ্যমে আয় করতে পারেন। গ্রাফিক ডিজাইনের মাধ্যমে আয় করার জন্য আপনারা ফাইবার, ফ্রিল্যান্সার এবং আপওয়ার্ক নামক মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে পারেন।

তবে এ ধরনের মার্কেটপ্লেসে কাজ করার সময় অবশ্যই আপনাদের নির্দিষ্ট নিজের ওপর পূর্ণাঙ্গ দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং কমিউনিকেশন করার জন্য আপনাদের ইংরেজি জানা লাগবে। গ্রাফিক ডিজাইন এর কাজ করার জন্য ভালো মানের একটি ডেস্কটপ এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে আপনারা ল্যাপটপ ব্যবহার করতে পারেন কিন্তু গ্রাফিক ডিজাইনে এমন কিছু ফাইল এবং সফটওয়্যার রয়েছে যেগুলো ল্যাপটপ কভার করতে পারে না। তাই আপনার ডেক্সটপকে গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ করার জন্য বেছে নিতে পারেন।

১১. ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট করে আয়

প্রযুক্তি যেহেতু সম্পূর্ণ আধুনিক হয়ে গিয়েছে এবং যা কিছু হচ্ছে সব ডিজিটাল ভাবে হচ্ছে তার জন্য ওয়েবসাইট এর কোন তুলনা হয় না। আমরা যখন গুগলে যে কোন বিষয় সম্পর্কে জানতে চায় তখন আমরা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানতে পারি। আর সকল ওয়েবসাইট গুলো ডিজাইন করে থাকে বিভিন্ন ওয়েব ডিজাইনার এবং ডেভেলপার। তাই আপনারা যদি ঘরে বসে একজন ওয়েব ডেভেলপার বা ডিজাইনার হতে পারেন তাহলে অবশ্যই ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট করে আয় করতে পারবেন।

ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট করার জন্য আপনাদের অবশ্যই একটি ভালো মানের ডেস্কটপ অথবা ল্যাপটপ এর প্রয়োজন। যেহেতু আপনারা ঘরে বসে আয় করবেন সেতু অবশ্যই আপনাদেরকে ডেস্কটপ এবং ল্যাপটপের ইন্টারনেট সংযোগ রাখা লাগবে। ভালো কোন প্রতিষ্ঠান থেকে আপনারা ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট ঘরে বসে আয় করতে পারেন। তবে আপনারা যদি ঘরে বসে ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট এর প্রাথমিক ধারণা নিতে চান এবং ব্যবহারিক ভাবে কাজ শিখতে চান তাহলে অবশ্যই আপনারা w3school ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কাজ শিখে নিতে পারেন।

১২. অ্যানিমেশন হতে আয়

আমরা ইউটিউবে এবং টেলিভিশনের পর্দা খুলে বিভিন্ন ধরনের কার্টুন দেখতে পাই। কার্টুন গুলো মূলত এনিমেশন। আপনারা চাইলে ঘরে বসে আয় করার জন্য এনিমেশনের কাজ শিখে খুব সহজে মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট তৈরি করার মাধ্যমে অ্যানিমেশন করে আয় করতে পারেন।

অ্যানিমেশন করে আয় করার জন্য আপনাদেরকে সর্বপ্রথম অ্যানিমেশন সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে হবে এবং ভালো মানের গ্রাফিক্স কার্ড সহ কম্পিউটার তৈরি করে নিতে হবে। আর মার্কেটপ্লেসে যেহেতু কাজ করবেন সেতু অবশ্যই আপনাকে ইন্টারনেট সংযোগ রাখতে হবে। এনিমেশনের কাজ করার জন্য অনেক ভারি ভারি সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হয় তাই আপনার কম্পিউটার যখন বিল্ড করবেন তখন অবশ্যই উন্নত মানের গ্রাফিক্স কার্ড, প্রসেসর, হার্ডডিক্স এবং র‍্যাম নিতে হবে। আপনি অ্যানিমেশনের কাজ কোনভাবে মোবাইলে করতে পারবেন না।

শেষ কথা

আপনারা আমাদের ওয়েবসাইটে এসেছেন ঘরে বসে আয় করার কিছু সহজ উপায় ২০২২। অনলাইনে আয় করার উপায় জানতে আশা করছি আমরা আপনাদেরকে এটি সম্পর্কে সঠিক এবং বিস্তারিত ধারনা দিতে পেরেছি। কারণ অনলাইনে আয় করার জন্য আপনাদেরকে অবশ্যই যেকোনো একটি বিষয়ের ওপর পূর্ণাঙ্গ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তাই আপনাদের উচিত যেকোনো একটি বিষয়ের ওপর দক্ষতা অর্জন করে এবং মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট তৈরি করার মাধ্যমে ঘরে বসে সহজে আয় করতে পারবেন। তবে অবশ্যই অনলাইনে আয় করার জন্য ভালো কোন প্রতিষ্ঠান হতে অথবা দক্ষ ব্যক্তি হতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আপনারা যদি ফ্রিল্যান্সিং এবং অনলাইনের মাধ্যমে আয় করা যায় এমন বিষয় সম্পর্কে অন্যান্য তথ্য জানতে চান তাহলে আপনি আমাদেরকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ।

Check This

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button