বিশ্বসভ্যতা বিকাশে গ্রিক ও রােমান সভ্যতার ভুমিকা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন

বিশ্বসভ্যতা বিকাশে গ্রিক ও রােমান সভ্যতার ভুমিকা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন রচনা কর (২৫০-৩০০ শব্দ) । নবম সপ্তাহে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পাঠ্য বইয়ের দ্বিতীয় এসাইনমেন্ট নেয়া হয়েছে বিশ্বসভ্যতা ( মিশর, সিন্ধু, গ্রিক ও রোমান) থেকে। শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বিষয়ের দ্বিতীয় অ্যাসাইনমেন্ট বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো।

বিশ্বসভ্যতা বিকাশে গ্রিক ও রােমান সভ্যতার ভুমিকা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন

একটি সভ্যতা (ইংরেজি: Civilization) হল কোন জটিল সমাজব্যবস্থা যা নগরায়ন, সামাজিক স্তরবিন্যাস, প্রতীকী যোগাযোগ প্রণালী (উদাহরণস্বরূপ, লিখন পদ্ধতি), উপলব্ধ স্বতন্ত্র পরিচয় এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর নিয়ন্ত্রণের মত গুণাবলি দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

সভ্যতাকে প্রায়শই আরও কিছু সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয় যেগুলোর উপর সভ্যতা নির্ভরশীল, আর সেগুলো হল কেন্দ্রীকরণ, মানুষ এবং অন্যান্য জীবের আবাসন, শ্রমের বিশেষায়িতকরণ, সাংস্কৃতিকভাবে সৃষ্ট উন্নয়ন আদর্শ, আধিপত্য স্থাপন, ভাস্কর্যের অনুরূপ স্থাপত্য, কর বা খাজনা আরোপ, কৃষির উপর সামাজিক নির্ভরশীলতা,

এবং সম্প্রসারণের প্রবণতা। সভ্যতার ইংরেজি শব্দ হল civilization যা ল্যাটিন শব্দ civis থেকে আগত যার অর্থ নগরে বসবাসরত কোন ব্যক্তি। এর কারণ হল, যখন কোন স্থানের মানুষ সভ্য হয়, তখন তারা কোন ছোট গোত্র বা যৌথ পরিবারের মত দলে নয় বরং নগরীর ন্যায় একটি বৃহৎ সুসংগঠিত আকারের দলে একত্রে বসবাস করে।

সাংগঠনিক বসবাসের ক্রমোন্নত স্তর হল সভ্যতা। এর অর্থ হল এর নিজস্ব আইন, সংস্কৃতি এবং জীবনব্যবস্থা ও আত্মরক্ষার নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। অধিকাংশ সভ্যতারই নিজস্ব কৃষিব্যবস্থা এবং রাজতন্ত্র বা নির্বাচন ব্যবস্থার ন্যায় সরকারপদ্ধতি রয়েছে। তারা একটি সাধারণ ভাষায় কথা বলে,

এবং তাঁদের নিজস্ব ধর্ম ও শিক্ষাব্যবস্থাও থাকতে পারে। সুমেরীয় ও মিশরীয় থেকে শুরু করে সকল সভ্যতারই নিজস্ব লিখন পদ্ধতি ছিল। এই লিখন পদ্ধতির মাধ্যমে তারা তাঁদের জ্ঞান সংকলন ও সংরক্ষণ করত।

গ্রিক সভ্যতা

খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ অব্দ হতে গ্রীক সভ্যতার সূত্রপাত। রোমানরা ‘হেলাস’ দেশকে ‘গ্রীক’ নামে রুপান্তরিত করে। গ্রীসের লোকেরা অতীতে নিজেদের ‘হেলেনীজ’ বলত। তাদের সংস্কৃতিকে হেলেনিক আখ্যায়িত করা হয।

আর হেলেনিস্টিক সংস্কৃতির জন্ম হয় মিশরের আলেকজান্দ্রিয়াকে কেন্দ্র করে গ্রিক সংস্কৃতির সাথে অন্য সংস্কৃতির মিশ্রণে। গ্রীক সভ্যতা মূলত স্পার্টা ও এথেন্সকেন্দ্রিক, স্পার্টা ছিল সামরিক নগররাষ্ট্র। নাগরিকদের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ ছিল বাধ্যতামূলক এবং বিশ থেকে ষাট বছর পর্যন্ত রাষ্ট্রের প্রয়োজনে তাদের শ্রম দিতে হত। এথেন্স ও স্পার্টার মধ্যে যে লোমহর্ষক যুদ্ধ হয় তা হল পোলোপনেসিয়ার যুদ্ধ। এ যুদ্ধে পতন ঘটে এথেন্সের।

নগররাষ্ট্র এথেন্সে সুচিত হয় পৃথিবীর প্রাচীন গনতন্ত্র। গণতন্ত্রের বেশ কয়েক শতাব্দী সময় লেগেছিল। এ সময় নাগরিকরা প্রশাসন, আইন ও বিচার বিভাগে অবাধে অংশ নিতে পারত। অর্থাৎ গণতন্ত্রের প্রাণ হিসেবে জনগণের ভূমিকা তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নিয়োগের ব্যবস্থা হয়েছেল। এথেন্সের গোত্রপ্রধানদের নিয়ে গঠিত সংসদকে বলা হত ‘এরিওপেগাস’।

দর্শন চর্চায় গ্রীক সভ্যতার ভূমিকা অত্যন্ত উজ্বল। সক্রেটিস ছিলেন ও সময়ের শ্রেষ্ট দার্শনিক। তিনি যুক্তিবাদী দর্শন প্রবর্তন করেন। এদের সফিস্ট বলা হয়। সক্রেটিসকে হেমলক বিষ পানে হত্যা করা হয়। এছাড়া প্লেটো (গ্রন্থ: রিপাবলিক), এরিস্টটল (গ্রন্থ: দি পলিটিক্স) গ্রীসের বিখ্যাত দার্শনিক। প্লেটো দর্শনের স্কুল একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। নিকলো ম্যাকিয়াভ্যালি (গ্রন্থ: দি প্রিন্স) আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক।

ঐসময়ে গ্রিসে প্রাচীন অলিম্পিক শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব ৭৭৬ অব্দে। এরা ভাস্কর্য, সঙ্গীত, বাদ্যযন্ত্র, চিকিৎসা প্রভৃতি ক্ষেত্রে দক্ষতা দেখিয়েছে। গ্রীক নাট্যকার ঈস্কিলাস (নাটক; প্রমিথিউস, আগামেনন), সফোক্লিস (নাটক: রাজা ইদিপাস, ইলেক্ট্রা) এ সময় নাটক রচনা করেন। এ সময় ইতিহাস রচনা করেন হিরোডটাস। তিনি ছিলেন ইতিহাসের জনক। এছাড়া থুকিডাইডস ইতিহাস রচনায় খ্যাতিমান। গ্রীকরা দেবদেবীতে বিশ্বাসী ছিল। গ্রিকদের প্রধান দেবতা ছিল জিউস।

রোমান সভ্যতা

ইটালীর রোমকে কেন্দ্র করে খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে রোমান সভ্যতার সূত্রপাত হয়। এটি নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা। ল্যাটিন রাজা রোম নগরীর পতন করেন। রাজা রমুলাসের নামেই রোম নগরীর নামকরণ করা হয়।

অগাস্টাস হলেন রোম সম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট। রোমের সম্রাট কনস্টটাইটাইন মৃত্যুর সময় খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। সঙ্গীতপ্রিয় রোমান সম্রাট লিওপোন্ড মৃত্যুর সময়ও সঙ্গীত শুনতে শুনতে প্রাণত্যাগ করেন।

রোমের একজন খ্যাতিমান সম্রাট ছিলেন জুলিয়াস সিজার। তিনি খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দে রোমের সম্রাট হন। এসময় মিশরের রানী ক্লিওপেট্রার সাথে সিজারের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জুলিয়াস সিজার ব্রিটেন আক্রমণ করেন খ্রিস্টপূর্ব ৫৫ অব্দে। জুলিয়াস সিজার সহজে ব্রিটেন দখল করে একটি কথা বলেছিলেন, “ভিনি, ভিডি ও ভিসি।‘ এর অর্থ এলাম, দেখলাম ও জয় করলাম। সিজারকে পাম্পে সূর্তী পর্বতের পাদদেশে হত্যা করা হয়। সিজারের মৃত্যুর পর মার্ক এন্টনির সাথে ক্লিওপেট্রার প্রণয় হয়।

প্রকাশিত অ্যাসাইনমেন্ট সমাধানটি শুধুমাত্র নমুনা উত্তর। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আমরা প্রতি শ্রেনীর, সকল সপ্তাহের, সকল বিষয়ের নমুনা সমাধান এখানে দিয়ে থাকি। সুতরাং শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ এই উত্তর যেন হুবহুব অ্যাসাইনমেন্ট আকারে জমা না দেওয়া হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top