একটি দেশের অর্থনীতি ও জনগোষ্ঠির জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে মুখ্য চালিকা শক্তি হলো ব্যবসায় -উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ।

একটি দেশের অর্থনীতি ও জনগোষ্ঠির জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে মুখ্য চালিকা শক্তি হলো ব্যবসায় -উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ।

ক) ব্যবসায়ের ধারণা : ইংরেজি business শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো যেকোনো কাজে ব্যস্ত থাকা। কিন্তু যে কোন কাজকে অর্থনীতিতে ব্যবসায় বলে না। এখানে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদন ও বন্টন সহ সকল বৈধ অর্থনৈতিক কাজকে ব্যবসায় বলে। অর্থনৈতিক কাজ বলতে অর্থ উপার্জন বা আয়-রোজগারের উদ্দেশ্যে কোন কাজ করাকে বুঝায়। কোন কাজ অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট হলেই তাকে ব্যবসায় বলা যাবে না। ঐ কাজ করার পেছনে অবশ্যই মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য থাকতে হয় তেমনি তা আইনত বৈধ হওয়া আবশ্যক। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে উৎপাদন সংক্রান্ত কাজ শিল্পের মাধ্যমে ও বন্টন সংক্রান্ত কাজ বাণিজ্যের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে শিল্প, বাণিজ্য ও এর সহায়ক সকল কাজই ব্যবসায়।

অর্থাৎ ব্যবসায়ী = মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদন সংশ্লিষ্ট কাজ + বণ্টন সংশ্লিষ্ট কাজের সমষ্টি।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়ক ওয়েব সাইট


HSC 2021 : ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা : ১ম সপ্তাহ : অ্যাসাইনমেন্ট : ২০২১
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা
প্রথম পত্র

একটি দেশের অর্থনীতি ও জনগোষ্ঠির জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে মুখ্য চালিকা শক্তি হলো ব্যবসায় -উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ।

নমুনা সমাধান

ক) ব্যবসায়ের ধারণা : ইংরেজি business শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো যেকোনো কাজে ব্যস্ত থাকা। কিন্তু যে কোন কাজকে অর্থনীতিতে ব্যবসায় বলে না। এখানে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদন ও বন্টন সহ সকল বৈধ অর্থনৈতিক কাজকে ব্যবসায় বলে। অর্থনৈতিক কাজ বলতে অর্থ উপার্জন বা আয়-রোজগারের উদ্দেশ্যে কোন কাজ করাকে বুঝায়। কোন কাজ অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট হলেই তাকে ব্যবসায় বলা যাবে না। ঐ কাজ করার পেছনে অবশ্যই মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য থাকতে হয় তেমনি তা আইনত বৈধ হওয়া আবশ্যক। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে উৎপাদন সংক্রান্ত কাজ শিল্পের মাধ্যমে ও বন্টন সংক্রান্ত কাজ বাণিজ্যের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে শিল্প, বাণিজ্য ও এর সহায়ক সকল কাজই ব্যবসায়।

অর্থাৎ ব্যবসায়ী = মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদন সংশ্লিষ্ট কাজ + বণ্টন সংশ্লিষ্ট কাজের সমষ্টি।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, জমির শেখ কৃষক, আলী হোসেন কাপড়ের দোকান, সুমন দাস চালের ব্যবসায়ী, শান্তা সরকার চাকরি করেন এদের প্রত্যেককেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। কিন্তু সকল কাজেই ব্যবসায়ী নয়। জমির শেখ যদি পরিবারের খাবারের প্রয়োজন মেটাতে চালডাল তরিতরকারি উৎপন্ন করেন, তবে তার এ অর্থনৈতিক কাজকে ব্যবসায় হবেনা। কিন্তু তিনি যদি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে উৎপন্ন করেন এবং তা থেকে লাভের প্রত্যাশা করেন তবে তার কাছে ব্যবসায় হিসেবে গণ্য।মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে আলী হোসেন কাপড় ও সুমন দাস চাল কিনে বিক্রি করেন।ফলে তাদের দুজনই ব্যবসায়ী। শান্তা সরকার চাকরি করে। মাস গেলে নির্দিষ্ট মাইনে পান।তিনি চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ী নন। একইভাবে কাপড় বা চালের কোনো ব্যবসায়ী যদি চোরাই পণ্য কিনে বিক্রি করে তবে ঐ কাজ বৈধ না হওয়ায় তা ও ব্যবসায় পর্যায়ে পড়বে না।

খ) ব্যবসায়ের আওতা অথবা পরিধি : মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পণ্য দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন, বন্টন এর সহায়ক যাবতীয় কাজে সমষ্টিকে ব্যবসায় বলে। এইয়উৎপাদন সংক্রান্ত কাজ শিল্পের মাধ্যমে ও বন্টন সংক্রান্ত কাজ বাণিজ্যের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বন্টনের ক্ষেত্রে ক্রয় বিক্রয় বা পণ্য বিনিময় মুখ্য কাজ হিসেবে গণ্য। অন্যান্য কাজ পণ্য বিনিময় এর সহায়ক কার্যাবলী হিসেবে বিবেচিত হয়।ব্যবসায়ীকে শিল্প-বাণিজ্যের সমষ্টি গণ্য করা হলেও সমাজে প্রত্যক্ষ সেবা ক্রয় বিক্রয় বর্তমানকালে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি অর্থনৈতিক কার্য হিসেবে বিবেচিত। তাই ব্যবসায়ের আওতা ও পরিধি নিম্নোক্ত রেখাচিত্রের সাহায্যে উপস্থাপন করা হলো:

১) শিল্প : শিল্প উৎপাদনে বাহন। যে কার্যপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ এবং এতে উপযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের ব্যবহার উপযোগী জন্য প্রস্তুত করা হয় তাকে শিল্প বলে। শিল্প কে প্রধানত ৫ ভাগে ভাগ করা হয়। যথা:

ক) প্রজনন শিল্প : অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে নির্বাচিত উদ্ভিদ ও প্রাণীর বংশবিস্তারকরণ প্রচেষ্টাকে প্রজনন শিল্প বলে। যেমন -নার্সারি, হ্যাচারি, হাঁস-মুরগির খামার ইত্যাদি।

খ) নিষ্কাশন শিল্প : মে শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভূগর্ভ, পানি, বায়ু হতে সম্পদ উত্তোলন করা হয় তাকে নিষ্কাশন শিল্প বলে যেমন খনিজ পদার্থ উত্তোলন, মৎস্য শিকার এরূপ শিল্পের অন্তর্গত।

গ) নির্মাণ শিল্প : যে শিল্প প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাস্তাঘাট, সেতু, বাঁধ, দালান কোঠা নির্মাণ করা হয় তাকে নির্মাণ শিল্প বলে।

ঘ) প্রস্তুত শিল্প : শ্রম ও যন্ত্রের সাহায্যে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় কাঁচামাল ও অর্ধ প্রস্তুত জিনিসকে মানুষের ব্যবহার উপযোগী চূড়ান্ত পণ্যে প্রস্তুত করার প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত শিল্প বলে। যেমন – বয়ন শিল্প, ইস্পাত শিল্প ইত্যাদি।

ঙ) সেবা পরিবেশক শিল্প : যে শিল্প মানুষের জীবনযাত্রা সহজ ও আরামদায়ক করার কাজে নিয়োজিত থাকে তাকে সেবা পরিবেশক শিল্প বলে। যেমন – গ্যাস,বিদ্যুৎ, টেলিফোন, পর্যটন, ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান এই শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।

২) বাণিজ্য : শিল্পে উৎপাদিত পণ্য প্রকৃত ভোগকারী বা ব্যবহারকারীর নিকট পৌঁছানোর ক্ষেত্রে যে সকল প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয় মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে তারা দূরীকরণের জন্য গৃহীত যাবতীয় কাজের সমষ্টিকে বাণিজ্য বলে। সুতরাং বাণিজ্য ব্যবসায়ী গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে বন্টন কাজের সাথে সম্পৃক্ত। বাণিজ্যের আওতাভুক্ত বিষয় সমূহ নিম্নরূপ:

ক) পণ্য বিনিময় : মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পণ্যদ্রব্য (যার মধ্যে সেবা অন্তর্ভুক্ত) ক্রয়-বিক্রয় কার্যকে ট্রেড বা পণ্য বিনিময় বলা হয়।এই বিনিময় বা ক্রয়-বিক্রয় বন্টনের ক্ষেত্রে মালিকানা হস্তান্তর কার্য সম্পন্ন করে ব্যক্তিগত বাধা দূর করে।

খ) পণ্য বিনিময় সহায়ক কার্যাবলী : এক্ষেত্রে ক্রয়-বিক্রয় কার্য সুষ্ঠুভাবে সমাধানের সময় ঝুঁকিগত, স্থানগত, কালগত, ও জ্ঞানগত বাধা দেখা দেয়। এ সকল বাধা দূরীকরণের জন্য যথাক্রমে ব্যাংক-বীমা, পরিবহন, গুদামজাতকরন, বাজারজাতকরণ ইত্যাদি কাজে সহযোগিতার প্রয়োজন পড়ে। তাই মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য এসকল কার্য সম্পাদনের জন্য সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানও স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়ের আওতাধীন।

৩) প্রত্যক্ষ সেবা : অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে স্বাধীন পেশায় নিয়োজিত ডাক্তার, উকিল, প্রকৌশলী প্রভৃতি পেশাজীবীগণ প্রত্যক্ষভাবে সেবাকর্ম বিক্রি করেন। এদের কাজ সাধারণভাবে ব্যবসায়ের আওতাধীন মনে করা হলেও প্রকৃত অর্থে তা পেশা বা বৃত্তি হিসেবে গণ্য হয়। তবে কয়েকজন ডাক্তার মিলে ক্লিনিক ব্যবসায় বা কয়েকজন উকিল মিলে অ্যাটর্নি ফার্ম বা প্রকৌশলীরা মিলে ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম গঠন করতে পারেন যা প্রত্যক্ষ সেবা বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সঙ্গত কারণেই ব্যবসায়ের আওতায় আসে।

গ) ব্যবসায়ের কার্যাবলী : মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পণ্য দ্রব্য ও সেবা কোন উৎপাদন, বন্টন এর সহায়ক যাবতীয় কাজই ব্যবসায়িক কার্যাবলী হিসেবে গণ্য। যথা:

১) উৎপাদন : উৎপাদন ব্যবসায়ের প্রথম ও মৌলিক কাজ। একজন ব্যবসায়ী বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পণ্য বা সেবা সামগ্রী উৎপাদন করে থাকেন। শিল্প উৎপাদনের বাহন। উৎপাদন বলতে এক্ষেত্রে বিনিয়োগযোগ্য নতুন উপযোগ সৃষ্টি করাকে বুঝায় যার ক্রেতাদের মাঝে ক্রয় আগ্রহ সৃষ্টি করে। উৎপাদন মূলতব্যবসায়ের ক্ষেত্রে রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করে।

২) ক্রয়-বিক্রয় : নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে পণ্য বা সেবার মালিকানা হস্তান্তরের কাজকে ক্রয়-বিক্রয় বলা হয়। ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে পণ্যের মালিকানা বিক্রেতার নিকট থেকে ক্রেতার নিকট হস্তান্তরিত হয়। ক্রয় বিক্রয়ের ব্যবসায়ের জন্য একটি সহজাত কাজ। তাই মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ক্রয়-বিক্রয়ের কাজকে ব্যবসায় হিসেবে গণ্য করা হয়। উৎপাদনকারী নিকট থেকে পণ্য বা সেবা ভোক্তা বাব্যবহারকারীর নিকট পৌঁছাতে ক্রয়-বিক্রয় ব্যক্তিগত বাধা দূর করে।

৩) অর্থসংস্থান : প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুসারে কাম্য পরিমাণ মূলধন উপযুক্ত উৎস বা উৎস সমূহ থেকে সংগ্রহ করার ও কাজে লাগানোর প্রক্রিয়াকে অর্থসংস্থান বলা হয়। একজন শিল্প উদ্যোক্তাকে শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য স্বল্পমেয়াদী ও মধ্যমেয়াদি অর্থসংস্থান করতে হয় ঠিক তেমনি একটি ছোট দোকানের মালিক কেও দোকান ভাড়া অগ্রিম প্রদান দোকানে সাজসজ্জার ইত্যাদি সংক্রান্ত কাজের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে হয়।

৪) ঝুঁকি গ্রহণ : ঝুঁকি হলো আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা। মানুষের জীবন ও সম্পত্তি কে ঘিরে সর্বদাই ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বিদ্যমান। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্ভাবনা অনেকটা বেশি। যেমন বাজারে পণ্যের মূল্য কমে যেতে পারে, চুরি ডাকাতির সম্ভাবনা, বাজারে মন্দাভাব সৃষ্টি হতে পারে, পণ্য বিনষ্ট হতে পারে, আগুনে বিনষ্ট, জাহাজডুবি ইত্যাদি।ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ঝুঁকিগত প্রতিবন্ধকতা বিমার মাধ্যমে দূরীভূত হয় অর্থাৎ বিমা ব্যবসায়ের ঝুঁকিগত প্রতিবন্ধকতা দূর করে।

৫) পরিবহন : পরিবহন ব্যবসায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। উৎপাদিত পণ্য উৎপাদকের নিকট থেকে চূড়ান্ত ভোক্তার নিকট পৌঁছানোর জন্য পণ্যের স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি করাকে পরিবহন বলা হয়। তাই পরিবহন ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে স্থানগত প্রতিবন্ধকতা দূর করে। এই বিশ্বায়নের যুগে বিশ্বের এক প্রান্তে উৎপাদিত পণ্য আজ অন্য প্রান্তের সহজেই ব্যবহার করা যাচ্ছে,তা একমাত্র সম্ভব হচ্ছে পরিবহনের মাধ্যমে। যেমন – বাংলাদেশের পোশাক ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার গুঁড়ো দুধ বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করছে ইত্যাদি অর্থাৎ পরিবহন ব্যবসায়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

৬) গুদামজাতকরন : উৎপাদন ও ভোগের মধ্যবর্তী সময়ে পণ্য বিনষ্ট না হওয়ার জন্য ব্যবসায়ীগণ পণ্য সংরক্ষণের জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে গুদামজাতকরন বলে। এটি ব্যবসায় ক্ষেত্রে সময়গত বাধা দূর করে। গুদামজাতকরন এর ফলে আমরা শীতকালীন দ্রব্য বা পণ্য সারাবছরই ভোগ করতে পারি, আলু উৎপাদনের পর রাখা হয় কোল্ড স্টোরেজে, মাছ রাখা হয় বরফের বাক্সে,তরিতরকারি শাকসবজি বড় বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কাচের হিমাগারে রাখা হয় ইত্যাদি।

৭) প্রমিতকরণ ও পর্যায়িতকরণ : পণ্যের আকার, ওজন, গুনাগুন, রং, স্থায়িত্ব ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে পণ্যের মান নির্ধারণ করাকে প্রমিতকরণ বলা হয়। পূর্ব নির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্যকে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করা কে পর্যায়িতকরণ বলা হয়।

৮) মোড়কীকরণ : পণ্যের মান সংরক্ষণ, ক্ষতি থেকে রক্ষা করা এবং পণ্যকে গ্রাহকের নিকট আকর্ষণীয়রূপে তুলে ধরার জন্য মোড়ক দিয়ে পণ্যকে ঢেকে রাখার কাজকে মোড়কীকরণ বলা হয়। যেমন চানাচুর, চিপ্স, চকলেট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ যদি পণ্যকে প্যাকেটজাত না করে খোলা বিক্রি করতো তাহলে পণ্যের মান ও গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যেত। তাই গ্রাহকের সুবিধার্থে পণ্যকে বিভিন্ন আকার ও ওজন অনুসারে বিভক্ত করে এবং মোড়কীকরণের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়। এতে পণ্যের গুণাগুণ রক্ষা পায় এবং পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধি পায়।

৯) বাজারজাতকরণ প্রসার : পণ্য বা সেবা সম্পর্কে সম্ভাব্য ক্রেতা বা গ্রাহকদের আগ্রহ সৃষ্টির মাধ্যমে বিক্রয় বৃদ্ধি করা প্রচেষ্টাকে বাজারজাতকরণ প্রসার বলা হয়। এটি ভোক্তাদের কাছে পণ্যের জ্ঞানগত বা প্রচার গত প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে সহায়তা করে। যেমন : পত্রপত্রিকায়, টিভিতে বিজ্ঞাপন, বড় বড় সুন্দর সাইনবোর্ড ইত্যাদি।

ঘ) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ব্যবসায়ের ভূমিকা:

ব্যবসায় যে কোন দেশে অর্থনীতির চালিকা শক্তি। উৎপাদন, বণ্টন, সঞ্চয়, বিনিয়োগ ইত্যাদি অর্থনীতির প্রধান উপাদান যা দেশের ব্যবসায়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত। ব্যবসা-বাণিজ্যে। অগ্রসর দেশই বর্তমানকালে উন্নত দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। উন্নত দেশের পর্যায়ে পৌঁছাতে হলে এখানে ব্যবসায়, শিল্প-বাণিজ্যের অগ্রগতির কোন বিকল্প নেই। কৃষিনির্ভর দেশ হলেও এদেশের অর্থনীতিতে ব্যবসায়ের ভূমিকা বাড়ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ব্যবসায়ের ও গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:

১) সম্পদের উপযুক্ত ব্যবহার : বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক নানান ধরনের সম্পদের যথাযথ ব্যবহারে ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্যিক ব্যবহার, কৃষিভিত্তিক শিল্প গঠন, বনজ সম্পদ, জনশক্তি ইত্যাদি কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবসায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছে।

২) ব্যক্তিগত ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি : প্রকট বেকার সমস্যার এদেশেও ব্যাপক মানুষ ব্যবসায়ের বিভিন্ন শাখায় যেমন মালিক, কর্মী, সরবরাহকারী সেবাদানকারী, ঋণদাতা ইত্যাদি নানান কাজে নিয়োজিত থাকে। ফলে তাদের আয় রোজগার বৃদ্ধি পায়। এতে সামগ্রিক জাতীয় উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ে।

৩) জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উন্নয়ন : অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে জাতীয় উৎপাদনের সম্পর্ক বিদ্যমান। এই উৎপাদন বৃদ্ধিতে দেশের নানান ধরনের শিল্প ও সেবাখাতসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশ ২০১৬-২০১৭ সালে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (৭.২%) ঘটেছে তাতে শিল্প খাতের অবদান ছিল ৮৫.১৭%।

৪) সঞ্চয় : উৎসাহদান ব্যবসায় সবসময় নতুন বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে এছাড়া নতুন ব্যবসায় গঠনেও পুঁজির প্রয়োজন হয় তাই এই প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে উৎসাহিত করে বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবসায় জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।

৫) মূলধন গঠন ও তার সদ্ব্যবহার : ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এর উদ্যোক্তা ও পরিচালকগণ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তাকে মূলধনের পরিণত করে বাংলাদেশের পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি সমূহ জনগণের নিকট শেয়ার বিক্রি করে এবং ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানসমূহ আমানত সংগ্রহ করে মূলধন গঠনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।

৬) কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি : বাংলাদেশ কৃষি নির্ভর দেশ হলেও এ দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ব্যবসায় ক্ষেত্রে কর্মরত।লেভার ফোর্স সার্ভে ২০১৩ অনুযায়ী সেবা খাতে দেশের মোট শ্রমিকের ৫৪.৯০% কর্মরত। ধীর হলেও দেশের শিল্প বাণিজ্য খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা দেশের বর্ধিত বেকার সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে।

৭) প্রযুক্তিগত উন্নতি লাভ : বিজ্ঞানের গবেষণা লব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগানোর জন্য প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও নব-নব প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়ীরা তাদের স্বার্থে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও নতুন প্রযুক্তি আমদানি করে তাকে কাজে লাগানোর প্রয়াস চালায়। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা প্রযুক্তিগত উন্নয়নের চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে দেশ উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের সুফল ভোগ করছে।

সুতরাং বলা যায় দেশ ও জাতির উন্নয়নে ব্যবসায়ের ভূমিকা অপরিসীম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top