আয়না সমাচার: প্রতিবিম্ব, আয়না থেকে বস্তু ও প্রতিবিম্বের দূরত্ব

আয়না সমাচার:- আমরা বাসায় সাজগােজ করার জন্য সবসময় আয়না ব্যবহার করি; বলা যেতে পারে এধরনের আয়না আমাদের নিত্যব্যবহার্য একটি জিনিস; এবার আয়নাটাকে হাত দিয়ে দেখলে বুঝা যাবে এটি একটি সমতল আয়না;

ক) বাসায় ব্যবহৃত এধরনের আয়নায় আমরা যে প্রতিবিম্ব দেখি তা বাস্তব না অবাস্তব এঁকে দেখাও;

খ) এধরনের আয়নার সামনে যদি একটি ছােট্ট বিন্দু A কল্পনা করি তা হলে তারও একটি প্রতিবিম্ব তৈরি হবে; তুমি তােমার জ্যামিতি বক্সের বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে A বিন্দুর প্রতিবিম্বের অবস্থান এঁকে দেখাও; তারপর আয়না থেকে A বিন্দু ও এর প্রতিবিম্বের দূরত্বের অনুপাত বের করে ফলাফলের উপর তােমার যৌক্তিক মতামত তুলে ধর;

গ) এবার একই আয়না ঘড়ির কাটা যেদিকে ঘুরে সেই দিকে অল্প কোণে (৫ থেকে ২০ ডিগ্রি) ঘুরিয়ে জ্যামিতি বক্সের সাহয্যে A বিন্দুর প্রতিবিম্ব আঁক। আয়না থেকে A বিন্দু ও এর প্রতিবিম্বের দূরত্বের অনুপাত কি একই থাকবে? ফলাফলের উপর তােমার যৌক্তিক মতামত তুলে ধর;

আয়না সমাচার: প্রতিবিম্ব, আয়না থেকে বস্তু ও প্রতিবিম্বের দূরত্ব

ক) প্রতিবিম্বঃ কোনো বিন্দু থেকে নিঃসৃত আলোকরশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত হয়ে যদি দ্বিতীয় কোনো বিন্দুতে মিলিত হয় বা দ্বিতীয় কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয় তাহলে ওই দ্বিতীয় বিন্দুকে প্রথম বিন্দুর প্রতিবিম্ব বলে।

বাস্তব বিম্বঃ কোনো বিন্দু থেকে নিঃসৃত আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলন বা প্রতিসরণের পর দ্বিতীয় কোনো বিন্দুতে মিলিত হলে বাস্তব বিম্ব গঠিত হয়। প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত আলোক রশ্মির প্রকৃত মিলনের ফলে বাস্তব বিম্ব গঠিত হয়। চোখে দেখা যায় এবং পর্দায়ও ফেলা যায়। অবতল দর্পণ ও উত্তল লেন্সে উৎপন্ন হয়।

অবাস্তব বিম্বঃ কোনো বিন্দু থেকে নিঃসৃত আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলন বা প্রতিসরণের পর দ্বিতীয় কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হলে দ্বিতীয় বিন্দুতে অবাস্তব বিম্ব গঠিত হয়। অবাস্তব বিম্বের ক্ষেত্রে প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত রশ্মিগুলোর প্রকৃত মিলন হয় না। চোখে দেখা যায় কিন্তু পর্দায় ফেলা যায় না। সব রকম দর্পণ ও লেন্সে উৎপন্ন হয়।

কোনো আয়নায় আমরা যদি একটি বস্তুর প্রতিবিম্ব দেখি সেটিকে যথেষ্ট বাস্তব মনে হলেও আসলে সেটি বাস্তব নয়। কারণ যেখান থেকে আলো আসছে বলে মনে হয় সেখান থেকে কোনো আলো আসছে না। আমরা পরে দেখব অনেক সময় কিছু সত্যি সত্যি এমনভাবে একটা প্রতিবিম্ব তৈরি হয়, যেখানে সত্যি সত্যি আলো কেন্দ্রীভূত হয় এবং সেখান থেকে আলোক রশ্মি বের হয়ে আসে। এ রকম প্রতিবিম্বকে বলে বাস্তব প্রতিবিম্ব এবং এই ধরনের প্রতিবিম্ব দিয়ে অনেক কাজ করা সম্ভব। আয়নায় যে প্রতিবিম্ব তৈরি হয়, সেখানে সত্যিকারের আলো কেন্দ্রীভূত হয় না, তাই এর নাম অবাস্তব প্রতিবিম্ব।

8.10 চিত্রে একটি মাত্র বিন্দু না হয়ে একটা বিস্তৃত বস্তুর প্রতিবিম্ব কীভাবে তৈরি হয় দেখানো হয়েছে। x এবং Y বিন্দু থেকে আলো আয়নায় প্রতিফলিত হয়ে যথাক্রমে X’ এবং Y’ এ অবাস্তব প্রতিবিল্ব তৈরি করেছে অর্থাৎ মনে হচ্ছে চোখে আলোক রশ্মি আসছে x এবং y থেকে। দেখাই যাচ্ছে XY এর যে দৈর্ঘ্য x’Y’ এর সেই একই দৈর্ঘ্য। XY তে তীরের মাথাটি যদি উপরের দিকে হয় তাহলে x’y’ তেও তীরের মাথাটি উপরের দিকে হবে। অর্থাৎ সাধারণ আয়নায় কিংবা দর্পণে প্রতিবিম্ব:

  • (a) আয়না থেকে সমদূরত্বে
  • (b) অবাস্তব
  • (c) সোজা এবং
  • (d) সমান দৈর্ঘ্যের

অবাস্তব প্রতিবিম্ব গঠন করে চিত্র সহ উল্লেখ করা হলো।

খ) আয়না হতে বস্তু ও প্রতিবিম্বের দুরত্বঃ

বিন্দু লক্ষ্যবস্তু দ্বারা প্রতিবিম্ব গঠন

৯.৩.১ সমতল দর্পণে প্রতিবিম্ব গঠন (Formation of image by a plane mirror) বস্তু যত বৃহৎ বা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন দর্পণের সামনে রাখলে দর্পণের পেছনে তার প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। রশ্মির রেখা চিত্রের মাধ্যমে আমরা বস্তু থেকে গঠিত বিম্বের অবস্থান ও আকার আকৃতি নিরূপন করতে পারি। আমরা একটি বিন্দু বস্তু এবং একটি বিস্তৃত বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠনের প্রক্রিয়া ও গঠিত প্রতিবিম্বের অবস্থান ও আকার আকৃতি বর্ণনা করব।

ধরা যাক একটি সমতল দর্পণ M, M, এর সামনে A একটি বিন্দু লক্ষ্যবস্তু (চিত্র ৯.১১)। লক্ষ্যবস্তু (A বিন্দু) থেকে সব দিকে আলোক রশ্মি ছড়িয়ে পড়ছে। তার মধ্যে বেশ কিছু রশ্মি দর্পণ তলে পড়ছে। এর একটি রশ্মি AP বরাবর দর্পণ তলে P বিন্দুতে আপতিত হয়ে PR পথে প্রতিফলিত হয়ে দর্শকের চোখ পড়ছে। আর একটি রশ্মি AQ, M,M2 দর্পণ তলে Q বিন্দুতে আপতিত হয়ে QS পথে প্রতিফলিত হয়ে দর্শকের চোখে পড়ছে।চোখে প্রবেশকারী প্রতিফলিত PR এবং QS রশ্মি দু’টি পেছনে বর্ধিত করলে I বিন্দুতে মিলিত হয়। মনে হয় I বিন্দু থেকে সরাসরি রশ্মি দু’টি চোখে এসে পড়ছে। I বিন্দুতে বিন্দুর প্রতিচ্ছবি তৈরি হয়।

বস্তু প্রতিবিম্বটি দেখা যায়, কিন্তু ধরা বা ছোঁয়া যায় না। এমনকি পর্দার উপরও ফেলা যায় না। তাই এটি একটি অসদ বা অবাস্তব প্রতিবিম্ব। সমতল দর্পণে সব সময় অসদ প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। ৯.১১ চিত্রে P ও Q বিন্দুতে দর্পণ তলের ওপর PN, এবং QN, অভিলম্ব । AI যোগ করলে দর্পণ তলকে M বিন্দুতে ছেদ করল।

প্রতিফলনের নিয়ম অনুযায়ী, <APN = < RPN1

AI সমান্তরাল PN1, যেহেতু উভয়েই M1,M2, দর্পণ তলে অভিলম্ব ।

অতএব যখন AP ছেদক <APN1 = <PAM (একান্তর কোণ বলে)

আবার যখন AP ছেদক <RPN1 = <PIM ( অনুরূপ কোন বলে)

<PAM = <PIM

(‘<APN1] = <RPN1)

এখন, ত্রিভুজ APM এবং IPM এর মধ্যে <IMP = <AMP ( :: প্রত্যেকে সমকোণ)

<PAM=<PIM

এবং PM সাধারণ বাহু। সুতরাং ত্রিভুজ দুটি সর্বসম।
AM=MI

বা, দর্পণ থেকে বস্তুর দূরত্ব = দর্পণ থেকে বিম্বের দূরত্ব। সংক্ষেপে, বস্তু দূরত্ব = প্রতিবিম্ব দূরত্ব।

গ) আয়না ঘূর্ণনের কারণে বস্তু ও প্রতিবিম্বের দুরত্বঃ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top