এ্যাসাইনমেন্ট

অংশীদারি ব্যবসায় ও এর হিসাব প্রক্রিয়া

আবুল, আবদুল ও আসাদুল একটি অংশীদারি কারবারের তিনজন অংশীদার। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি আবুল ৩,০০,০০০ টাকা, আবদুল ২,৫০,০০০ টাকা এবং আসাদুল ২,০০,০০০ টাকা মূলধন স্বরূপ সরবরাহ করেন। আবদুল প্রতি মাসে ৫০০ টাকা নগদ উত্তোলন করেন এবং আসাদুল বছরের মাঝামাঝি ২,০০০ টাকার পণ্য উত্তোলন করেন। আবুল কারবার পরিচালনা করেন এবং এ কারণে তিনি প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা বেতন পাবেন। আর্থিক স্বল্পতার কারণে ১ এপ্রিল আসাদুল ১০,০০০ টাকা ঋণ প্রদান করেন এবং আবুল ১ জুন ২০,০০০ টাকা অতিরিক্ত মূলধন সরবরাহ করেন। আংশীদারি চুক্তি অনুযায়ী উত্তোলনের উপর বার্ষিক ১০% সুদ ধার্য করতে হবে। আবুল ব্যবসায়ে তার সার্বক্ষণিক সহায়তা করার জন্য বন্টন যোগ্য লাভের উপর কমিশন ধার্য করার পরবর্তী লাভের উপর ৫% হারে কমিশন পাবেন। আবুদলের বেতন ডেবিট করার পর কিন্তু অন্যান্য সমন্বয় সাধন করার পূর্বে ব্যবসায়ের নিট লাভ ১,১০,০০০ টাকায় উপনীত হয়।

অংশীদারি ব্যবসায় ও এর হিসাব প্রক্রিয়া

নির্দেশনা :
* চুক্তির অবর্তমানে অংশীদারি ব্যবসায়ের অমিমাংশিত বিষয়সমূহের নিষ্পত্তিরকরণ।
* অংশীদারদের মধ্যে লাভ-লোকসান বণ্টন হিসাব প্রস্তুত করতে হবে।
* অংশীদারদের চলতি হিসাব প্রস্তুত করতে হবে।
* অংশীদারদের মূলধন হিসাব প্রস্তুত করতে হবে (পরিবর্তনশীল মূলধন পদ্ধতি ও স্থিতিশীল মূলধন পদ্ধতিতে)।

চুক্তির অবর্তমানে অংশীদারি ব্যবসায়ের অমিমাংসিত বিষয়সমূহের নিস্পত্তিরকরণ

অংশীদারি ব্যবসায় পরিচালনা বা কোন প্রকার বিরোধ নিষ্পত্তির যাবতীয় বিষয়াদির অংশীদারী চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকে। অংশীদারী চুক্তিপত্রের উল্লেখ নেই, এমন কোন ঘটনা ব্যবসায়ে সংঘটিত হলে তা বাংলাদেশ বলবৎযোগ্য ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন এর মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। তাই চুক্তির অবর্তমানে প্রযোজ্য কয়েকটি বিধান নিম্নে উল্লেখ করা হলো-

Related Articles
  • ১. অংশীদারগণকে সমান হারে মূলধন সরবরাহ করতে হবে।
  • ২. অংশীদারগণ ব্যবসায় থেকে সমান পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করার অধিকারী হবে।
  • ৩. অংশীদার কর্তৃক সরবরাহকৃত মূলধন এবং উত্তোলনের উপর কোন প্রকার সুদ ধার্য করা যাবে না।
  • ৪. ব্যবসায়ের লাভ-লোকসান অংশীদারদের মধ্যে সমান হারে বন্টন করতে হবে।
  • ৫. ব্যবসায় পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় সকল অংশীদার সমান অধিকার ভোগ করবে।
  • ৬. ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণের জন্য কোন অংশীদার বেতন-ভাতা ও কমিশন দাবি করতে পারবে না।
  • ৭. ব্যবসায়ের প্রয়োজনে তৃতীয় পক্ষ বা কোন অংশীদার এর নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করা হলে উক্ত ঋণের বিপরীতে শতকরা ৬ টাকা হারে সুদ প্রদান করতে হবে।
  • ৮. ব্যবসা এর যাবতীয় হিসাব ও দলিলপত্রাদি প্রধান অফিস এর সংরক্ষিত থাকবে।

অংশীদারি ব্যবসায় ও এর হিসাব প্রক্রিয়া

  • ৯. হিসাব ও দলিলপত্রাদি পরিদর্শন করা এবং এর প্রতিলিপি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সকল অংশীদার সমান অধিকার ভোগ করবে।
  • ১০. ব্যবসায় পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় কোন প্রকার অনৈক্য দেখা দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশীদারদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা মীমাংসা করতে হবে।
  • ১১. ব্যবসায়ের সকল অংশীদার একমত না হলে অর্থাৎ অংশীদারদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছাড়া ব্যবসায় কোন অংশীদার নেওয়া যাবেনা। এমনকি কোনো অংশীদারকে বহিষ্কারও করা যাবে না।
  • ১২. ব্যবসা এর সকল প্রকার দায় ও দেনার জন্য সকল অংশীদার সমান ও যৌথ ভাবে দায়ী থাকবে। ক্ষেত্রবিশেষে কোন অংশীদার এককভাবে দায়ী থাকতে পারে।
  • ১৩. ব্যবসায়ের স্বার্থে কোন অংশীদার তার ব্যক্তিগত অর্থ খরচ করলে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যবসায় থেকে তার খরচের টাকা পরিশোধ করতে হবে বা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
  • ১৪. কোন অংশীদার এর ব্যক্তিগত আচরণ বা কার্যকলাপ দ্বারা ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ হলে ওই অংশীদার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।
  • ১৫. প্রত্যেক অংশীদারের হিসাব পত্র ও দলিলপত্রাদি পরিদর্শন ও প্রতিলিপি পাওয়ার অধিকার থাকবে।
  • ১৬. অংশীদারদের সর্বসম্মতভাবে লাভ লোকসান ও বন্টন হার মূলধনের পরিমাণ পুনঃনির্ধারণ করা যাবে।
  • ১৭. অংশীদারদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুসারে ব্যবসায়ের বিলোপসাধন এবং বিলোপ সাধন উত্তর হিসাব নিকাশ করা যাবে।

অংশীদারদের মধ্যে লাভ-লােকসান বন্টন হিসাব প্রস্তুত-

অংশীদারদের চলতি হিসাব প্রস্তুত

মুলধন হিসাব প্রস্তুত (পরিবর্তনশীল মূলধন পদ্ধতি ও স্থিতিশীল মূলধন পদ্ধতিতে)

Check This

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button